যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে, পেটে টান পাকিস্তানে! ১০ দিনের ‘লকডাউনে’ ইসলামাবাদে হাহাকার দিনমজুরদের

যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে, পেটে টান পাকিস্তানে! ১০ দিনের ‘লকডাউনে’ ইসলামাবাদে হাহাকার দিনমজুরদের

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং ইরান-সংক্রান্ত সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে গত দশ দিন ধরে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে প্রশাসন। এর ফলে সাধারণ জনজীবন যেমন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, তেমনই স্থবির হয়ে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। স্থানীয়দের দাবি, আন্তর্জাতিক রাজনীতির মারপ্যাঁচে সাধারণ নাগরিকরাই বলির পাঁঠা হচ্ছেন।

উপেক্ষিত দিনমজুর ও কর্মহীন জনজীবন

শহরের অধিকাংশ বাজার ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় সবথেকে বেশি সঙ্কটে পড়েছেন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ। প্রশাসনের নির্দেশে সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারীরা বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ পেলেও, বিকল্প আয়ের কোনো পথ নেই দিনমজুরদের। উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ায় অনেকেই বাড়ি ভাড়া দিতে না পেরে বাসস্থান হারিয়েছেন। বিশেষ করে রাওয়ালপিন্ডি ও সংলগ্ন এলাকার শ্রমিকরা অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন, যা অনেককেই করোনাকালের ভয়াবহ দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি

আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যকার এই সম্ভাব্য শান্তি আলোচনাকে ঘিরে পাকিস্তানে ব্যাপক কড়াকড়ি জারি থাকলেও বৈঠকের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইতিবাচক খবরের ইঙ্গিত দেওয়া হলেও, একাধিক কূটনৈতিক রিপোর্ট বলছে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদলের পরিকল্পনা বদলে যেতে পারে। এই টানাপোড়েনের মধ্যে খাবার ও কাজের অভাবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে শেহবাজ শরিফ সরকারের ওপর।

এক ঝলকে

  • সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার জেরে ইসলামাবাদে টানা ১০ দিন ধরে অঘোষিত লকডাউন চলছে।
  • প্রধান সড়ক ও বাজার বন্ধ থাকায় দিনমজুর এবং নিম্নবিত্তরা কাজ হারিয়ে চরম সঙ্কটে পড়েছেন।
  • সাধারণ মানুষের আয় ও যাতায়াত বন্ধ থাকলেও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।
  • হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও চলাচলের ক্ষেত্রে ব্যাপক বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *