মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা দিল্লিতে ফিরেই মাঝরাতে হাইভোল্টেজ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা দিল্লিতে ফিরেই মাঝরাতে হাইভোল্টেজ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে এখন বারুদের গন্ধ। ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি এসে পৌঁছাল ভারতের দোরগোড়ায়। তেহরানে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা ও বিদেশে থাকা ভারতীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিন দিনের সফর সেরে দিল্লি ফিরেই জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মাঝরাতেই বসছে নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি

সূত্রের খবর অনুযায়ী, রবিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বিমান দিল্লিতে অবতরণ করার কথা। সাধারণত বিদেশ সফর সেরে ফেরার পর বিশ্রামের অবকাশ থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে বিমানবন্দর থেকেই সোজা সাউথ ব্লকে ছুটবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিএস) বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন তিনি। এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।

লক্ষ্য যখন আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধার

যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিক কর্মসংস্থান বা অন্যান্য কারণে বসবাস করছেন। বিশেষ করে ইরান ও ইজরায়েলে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা এখন সবথেকে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই সেখানের ভারতীয় দূতাবাসগুলো থেকে নাগরিকদের জন্য বিশেষ অ্যাডভাইজারি জারি করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে সকলকে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই রাতের বৈঠকে প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে ‘অপারেশন রেসকিউ’। অর্থাৎ, পরিস্থিতি আরও হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই কীভাবে বিশেষ বিমানে করে ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, তার নীল নকশা তৈরি করাই এখন দিল্লির অগ্রাধিকার।

যুদ্ধের দাবানল ও ভারতের অবস্থান

শনিবার সকালে তেহরানে ইজরায়েলি হামলার পর থেকেই বিশ্ব রাজনীতিতে মেরুকরণ স্পষ্ট। আমেরিকার পরোক্ষ মদতে চলা এই হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পর পালটা প্রত্যাঘাতের প্রহর গুনছে গোটা বিশ্ব। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ববাজারে তেলের দাম থেকে শুরু করে ভারতের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এমতাবস্থায় ভারত কোন পথে হাঁটবে এবং বিদেশের মাটিতে দেশের সম্মান ও নাগরিক সুরক্ষা কীভাবে বজায় থাকবে, তার উত্তর মিলতে পারে মোদীর এই হাইভোল্টেজ বৈঠকের পর।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে তা জানতে এখন তাকিয়ে গোটা দেশ। সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধারকাজ শুরু করার চূড়ান্ত সবুজ সংকেত মিললেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করবে বায়ুসেনা ও বিদেশমন্ত্রক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *