মণিপুর থেকে বিশেষ ট্রেনিং নিয়ে মালদায় মাদকের সাম্রাজ্য, পুলিশের জালে মাস্টারমাইন্ড কাইয়ুম

মালদা জেলা পুলিশের এক দুঃসাহসিক অভিযানে পর্দা ফাঁস হলো এক বিশাল মাদক চক্রের। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই জেলায় নিষিদ্ধ মাদকের কারবার রুখতে কালিয়াচক ও মোথাবাড়ি থানার পুলিশ যৌথভাবে এক অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। আমলিতলা ফিল্ড এলাকায় রাতের অন্ধকারে চলা এক গোপন ডেরা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে কাইয়ুম সেখ নামের এক কুখ্যাত মাদক কারবারিকে, যার হাত ধরে মণিপুরের ড্রাগ নেটওয়ার্ক বাংলায় শিকড় গেড়েছিল।
গভীর জঙ্গলে ব্যাটারি চালিত আলোয় চলত মাদক তৈরি
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ধৃত কাইয়ুম সেখ মালদার কালিয়াচক থানার কিসমতপুর এলাকার বাসিন্দা। সে মোথাবাড়ি থানার অন্তর্গত আমলিতলা এলাকার একটি বাগানের গভীর জঙ্গলে আস্তানা গেড়েছিল। পুলিশের নজর এড়াতে সেখানে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ না নিয়ে ব্যাটারি চালিত লাইট ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছিল ব্রাউন সুগার। শুক্রবার রাত ৯টা নাগাদ যখন পুলিশ সেখানে হানা দেয়, তখন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বেশ কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় মাস্টারমাইন্ড কাইয়ুম। তার হেফাজত থেকে প্রায় সাড়ে চার কেজি ওজনের একটি কন্টেনার ভর্তি উচ্চমানের নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।
মণিপুর কানেকশন ও অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো এই চক্রের সাথে মণিপুরের সরাসরি যোগাযোগ। মালদার পুলিশ সুপার অভিজিৎ ব্যানার্জি জানিয়েছেন যে, ধৃত অপরাধীরা রীতিমতো মণিপুর থেকে মাদক তৈরির কাঁচামাল এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছিল। তদন্তে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে মালদায় যে ৮০ কেজির বেশি ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়েছে এবং ৪০ জন গ্রেফতার হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই মণিপুর যোগ রয়েছে। এমনকি মণিপুর থেকে ড্রাগ বিশেষজ্ঞরা মালদায় এসে গোপন আস্তানায় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে যেত বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। ইতিপূর্বে গ্রেফতার হওয়া অপরাধীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই ‘মণিপুর মডেল’ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে প্রশাসন।
মাদক রুখতে মালদা পুলিশের স্পেশাল ফর্মুলা
কালিয়াচক একসময় মাদক কারবারের মূল কেন্দ্র বা ‘আঁতুড়ঘর’ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু জেলা পুলিশের লাগাতার অভিযানের ফলে কারবারিরা এখন ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন পকেট এরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে। তবে পুলিশও দমবার পাত্র নয়। মালদা পুলিশ যেভাবে একের পর এক গোপন ডেরায় হানা দিয়ে এই চক্রের কোমর ভেঙে দিচ্ছে, সেই সফল ‘অপারেশনাল ফর্মুলা’ এখন মণিপুর পুলিশের সঙ্গেও শেয়ার করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই যৌথ রণকৌশল অবলম্বন করলে উত্তর-পূর্ব ভারতের মাদক পাচার ও উৎপাদন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। আপাতত ধৃত কাইয়ুমকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের বাকি সদস্যদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।