তালিকায় নেই পঞ্চায়েত কর্মাধ্যক্ষও! ভোটার তালিকা থেকে শয়ে শয়ে নাম বাদ যাওয়ায় অগ্নিগর্ভ পাহাড়

তালিকায় নেই পঞ্চায়েত কর্মাধ্যক্ষও! ভোটার তালিকা থেকে শয়ে শয়ে নাম বাদ যাওয়ায় অগ্নিগর্ভ পাহাড়

ভোটার তালিকা সংশোধনে নজিরবিহীন বিভ্রাট! নকশালবাড়ি থেকে ফাঁসিদেওয়ায় গণহারে নাম বাদ পড়ায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা পাহাড় জুড়ে। সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট হাতে আসতেই দেখা যাচ্ছে, তালিকায় নেই পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ থেকে শুরু করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের নাম। বাদ পড়া ভোটারদের সংখ্যা এক-একটি বুথেই কয়েকশো ছাড়িয়ে যাওয়ায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ক্ষোভের আগুনে উত্তাল নকশালবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়া

ফাঁসিদেওয়ার লাহুগছ গ্রামের চিত্রটা সবথেকে ভয়াবহ। সেখানে দুটি বুথেই নাম কাটা গিয়েছে ৬০৯ জন ভোটারের। তালিকায় নাম না দেখে রবিবার থেকে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হন ক্ষুব্ধ জনতা। নকশালবাড়ির হাতিঘিসাতেও একই ছবি, সেখানেও বাদ পড়েছে ৬৬ জনের নাম। বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে রয়েছেন নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আসরফ আনসারি। অভিযোগ উঠছে, সুপরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ভোটারদের নিশানা করা হচ্ছে।

কার্শিয়াংয়ে আছড়ে পড়ল প্রতিবাদের ঢেউ

পাহাড়ের জনপদেও ছড়িয়েছে এই ক্ষোভ। কার্শিয়াং শহরে সোমবার রাস্তায় নামেন ডিলিট ভোটাররা। তাঁদের অভিযোগ, পাহাড়ের ভূমিপুত্রদের বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা তকমা দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। নির্বাচন কমিশন ও সাংসদ রাজু বিস্তার বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে সরব হন আন্দোলনকারীরা। অনেকেরই দাবি, প্রথম তালিকায় নাম থাকলেও দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গিয়েছে তাঁদের পরিচয়।

বিচারের অপেক্ষায় কয়েক হাজার মানুষ

ভোটার তালিকায় এই গণছাঁটাইয়ের ফলে পাহাড়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কার নির্দেশে এবং কেন এইভাবে আইনি ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একদিকে যখন আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে পাহাড়ের ঘরে ঘরে এখন এনআরসি আতঙ্ক ও ক্ষোভের চোরা স্রোত বইছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *