সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অভিষেক! বাংলার ভোটার তালিকায় কি বিহার-ইউপি থেকে লোক ঢোকাচ্ছে বিজেপি?

সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অভিষেক! বাংলার ভোটার তালিকায় কি বিহার-ইউপি থেকে লোক ঢোকাচ্ছে বিজেপি?

কলকাতা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্য় রাজনীতিতে মহাপ্রলয়। নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে সশরীরে হাজির হয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে ভোটারদের নাম এ রাজ্যের তালিকায় ঢুকিয়ে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার ছক কষছে বিজেপি। সোমবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে জমা পড়া ‘বস্তা ভর্তি’ ফর্ম নিয়ে এখন তোলপাড় গোটা রাজ্য।

৩০ হাজার ফর্মের রহস্য ও অভিষেকের চ্যালেঞ্জ

ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন যে তিনি বড়সড় চুরির প্রমাণ হাতেনাতে ধরে ফেলেছেন। তাঁর অভিযোগ, নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রায় ৩০ হাজার ‘ফর্ম-৬’ জমা দিয়েছে বিজেপি কর্মীরা। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এত বিপুল পরিমাণ ফর্ম জমা দিতে গেলে অন্তত ৬০০ জন আবেদনকারীকে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হয়। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে যে কীভাবে পিছনের দরজা দিয়ে এই কারচুপি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে ২৪ ঘণ্টার ফুটেজ জনসমক্ষে আনার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন তিনি।

অমিত মালব্যের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

তৃণমূল নেতার নিশানায় রয়েছেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। অভিষেকের দাবি, মালব্যের নির্দেশেই ভিনরাজ্যের ভোটারদের নাম অবৈধভাবে বাংলায় ঢোকানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিজেপি এভাবেই মহারাষ্ট্র ও দিল্লিতে জিতেছে। এখন বাংলায় সেই একই মডেল প্রয়োগের চেষ্টা চলছে। কোনও ফর্ম-৮ পূরণ না করেই সরাসরি ভোটার তালিকায় নাম তোলার এই ষড়যন্ত্র আমরা সফল হতে দেব না।”

চাঞ্চল্যকর দাবি ও তৃণমূলের প্রতিবাদ

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে হাজার হাজার জাল আবেদনপত্রের মাধ্যমে রাজ্যের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে বিজেপি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফরের পর সিইও দপ্তরের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত বয়ান না মেলায় জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ কি সামনে আসবে? উত্তরপ্রদেশ-বিহার যোগের এই অভিযোগে কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েই এখন সরগরম বাংলার রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *