বিজেপি ক্ষমতায় এলে ডিসেম্বরের মধ্যে ৬ লক্ষ সরকারি চাকরির বড় ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ ক্রমেই চড়ছে। আনুষ্ঠানিক ইস্তেহার প্রকাশের আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের জনসভা থেকে একগুচ্ছ চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলে একে বিজেপির ‘মিনি ইস্তেহার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সভা থেকে শুভেন্দু দাবি করেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ৬ লক্ষ শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও ঘুষ নেওয়া হবে না এবং চাকরির আবেদনের জন্য কোনও ফি লাগবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় ছাড়ের কথা শুনিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এসএসসি এবং পিএসসি পরীক্ষায় আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়িয়ে দেওয়া হবে, যাতে আরও বেশি সংখ্যক চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় বসার সুযোগ পান। এছাড়া সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা এবং সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও পুলিশ কর্মীদের বকেয়া ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। সীমান্ত সুরক্ষায় কড়াকড়ি করতে ৪৫ দিনের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ করার অঙ্গীকার শোনা গিয়েছে তার কণ্ঠে।
মহিলা ও বিজেপি কর্মীদের জন্য একাধিক ভাতার কথা ঘোষণা করেছেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দুর দাবি, জুন মাস থেকেই মা-বোনেদের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া শুরু হবে। পাশাপাশি যেসব বিজেপি কর্মী রাজনৈতিক মামলার কারণে জেল খেটেছেন, তাদের জন্য মাসে ৫ হাজার টাকা ‘সংগ্রামী ভাতা’ প্রদানের ঘোষণা করেছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও নারী সুরক্ষা নিয়ে উত্তরপ্রদেশের মডেল অনুসরণ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, রাজ্যে নারী নিগ্রহকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোকে কার্যকর করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী জল জীবন মিশন ও ফসল বিমা যোজনা। এছাড়া প্রতিটি বাড়িতে ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে সোলার প্যানেল বসানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পরিকল্পনাও পেশ করেন তিনি।
বিজেপির এই সম্ভাব্য ইস্তেহারে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জল্পনা রয়েছে যে, মহিলা ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধাও রাখা হতে পারে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ বাস্তবায়ন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদ পূরণ করে শিক্ষার মানোন্নয়নই বিজেপির প্রধান লক্ষ্য হতে চলেছে। সূত্রের খবর, ৫ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করতে পারে গেরুয়া শিবির। লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বঙ্গ রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।