৮৮ বছরেও নাগরিকত্বের লড়াই, নন্দলাল বসুর পৌত্রের নাম বাদ যাওয়ায় ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী এবং ভারতীয় সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপির অলঙ্করণকারী নন্দলাল বসুর উত্তরসূরিদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। শিল্পীর ৮৮ বছর বয়সী পৌত্র সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং তাঁর স্ত্রী দীপা সেনের নাম সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও কেন তালিকাভুক্ত করা হয়নি, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই প্রবীণ দম্পতির নাগরিকত্ব নিয়ে এমন টানাপোড়েন অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনকে এই আপিল নিষ্পত্তিতে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং সমস্ত তথ্য যাচাই করে দ্রুত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁদের নাম তুলতে হবে। এছাড়া, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে তিন জন প্রাক্তন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি মূলত আপিল ট্রাইব্যুনালগুলোর জন্য একটি বাধ্যতামূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো নাগরিককে এমন হয়রানির শিকার হতে না হয়।
জানা গিয়েছে, সুপ্রবুদ্ধ সেন ও তাঁর স্ত্রী সশরীরে হাজিরা দিয়ে পাসপোর্ট, বিশ্বভারতীর শিক্ষাগত শংসাপত্র এবং পেনশনের নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও তাঁদের নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছিল। জাতীয় আবেগের সঙ্গে জড়িত একটি পরিবারের সদস্যদের ভোটাধিকার নিয়ে এই প্রশাসনিক জটিলতায় দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপ কেবল একটি বিশেষ পরিবারের ন্যায়বিচার নয়, বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সাধারণ ভোটারদের অধিকার রক্ষায় একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।