অপারেশন সিন্দুর: পাকিস্তানের প্রোপাগান্ডা রুখতে ভারতের ‘মাস্টারস্ট্রোক’, বড় ঘোষণা সেনাপ্রধানের!

বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত ত্রি-দেশীয় সেমিনার ‘রণ সংবাদ ২০২৬’-এ ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী আধুনিক যুদ্ধকৌশলের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। তিনি ‘অপারেশন সিন্দুর’-কে আধুনিক যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘কেস স্টাডি’ হিসেবে অভিহিত করে জানান যে, এটি কেবল একটি সামরিক অভিযান ছিল না বরং পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ভারতের কৌশলগত বিজয়ের একটি ব্লুপ্রিন্ট।
তথ্য যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব
সেনাপ্রধানের মতে, আধুনিক সময়ে যুদ্ধ কেবল রণক্ষেত্রের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। অপারেশন সিন্দুরের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, এই অভিযানের মোট প্রচেষ্টার প্রায় ১৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছে তথ্য যুদ্ধ বা ‘ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার’ এবং ন্যারেটিভ ম্যানেজমেন্টের পেছনে। শত্রুপক্ষের নেতিবাচক প্রোপাগান্ডাকে রুখে দিতে সত্যের ইতিবাচক শক্তিকে ব্যবহার করাই ছিল ভারতের মূল কৌশল।
বহু-স্তরীয় অভিযানের প্রভাব ও সাফল্য
অপারেশন সিন্দুরকে বহু-স্তরীয় পরিচালনার (MDO) একটি নিখুঁত উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর বিশেষ দিকগুলো হলো:
- সমন্বিত শক্তি: স্থল ও বিমান বাহিনীর নির্ভুল হামলার পেছনে কাজ করেছে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক, সাইবার এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের ইনপুট।
- কৌশলগত ভারসাম্য: নৌবাহিনীর সক্রিয় অবস্থান সামগ্রিক রণকৌশলে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
- ডোমেইন ফিউশন: সেনাপ্রধানের মতে, কোনো একটি নির্দিষ্ট বিভাগ একা যুদ্ধ জয় করতে পারে না। স্থল, আকাশ, জল, সাইবার এবং মহাকাশ—এই পাঁচটি ডোমেইনের মেলবন্ধনেই সাফল্য আসে।
মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরক্ষা বিভাগের গঠন
অপারেশন সিন্দুর থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘সাইকোলজিক্যাল ডিফেন্স ডিভিশন’ (PDD) গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ বিভাগের প্রধান কাজগুলো হবে:
- রিয়েল-টাইম মোকাবিলা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবর শনাক্ত করা।
- প্রোপাগান্ডা প্রতিরোধ: শত্রু দেশগুলোর চালানো মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
ভবিষ্যৎ যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি
জেনারেল দ্বিবেদী সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, বর্তমান বিশ্ব একটি অঘোষিত এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখন কেবল সামরিক বাহিনী নয়, সাধারণ নাগরিক এবং ব্যবসায়ীরাও যুদ্ধের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি ডোমেইন সাইলো (বিচ্ছিন্ন অবস্থান) থেকে বেরিয়ে এসে ‘ডোমেইন ফিউশন’-এর ওপর জোর দিয়েছেন, যেখানে বাহিনীর প্রতিটি স্তরের মধ্যে সমন্বয় থাকবে সুদৃঢ়।
একঝলকে
- অপারেশন সিন্দুর এখন আধুনিক সামরিক অভিযানের মডেল বা ব্লুপ্রিন্ট।
- অভিযানের ১৫ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল তথ্য ও ন্যারেটিভ ব্যবস্থাপনায়।
- ভুয়া খবর রুখতে সেনাবাহিনীতে সাইকোলজিক্যাল ডিফেন্স ডিভিশন (PDD) চালু।
- ১.৩ কোটি সেনাসদস্য ও তাঁদের পরিবারকে তথ্য যুদ্ধের অংশ হিসেবে বিবেচনা।
- আধুনিক যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ডোমেইন ফিউশন বা বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত শক্তি।