সাবধান! এবার মেপে মিলবে পেট্রোল-ডিজেল, পকেটে টাকা থাকলেও রিলায়েন্স পাম্পে জারি বড় নিষেধাজ্ঞা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে ভারতের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দেশের বৃহত্তম বেসরকারি শোধনাগার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (আরআইএল) তাদের খুচরা আউটলেটগুলোতে জ্বালানি বিক্রির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বর্তমানে জিও-বিপি পাম্পগুলো থেকে গ্রাহকপ্রতি তেলের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি সংকটের বর্তমান চিত্র
রিলায়েন্স এবং ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত দেশের প্রায় ২,০০০ পেট্রোল পাম্পে বর্তমানে এই কড়াকড়ি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও কো ম্পা নি থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত নির্দেশিকা আসেনি, তবে মৌখিকভাবে পাম্প অপারেটরদের নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল বিক্রির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- জনপ্রতি ১,০০০ টাকার বেশি পেট্রোল বা ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে না।
- অপ্রত্যাশিত ভিড় এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্কিত কেনাকাটা (প্যানিক বায়িং) ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
- মজুত ফুরিয়ে যাওয়া রোধ করতে স্থানীয় স্তরে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
অস্থিরতার মূল কারণ: হরমুজ প্রণালী সংকট
ভারত তার মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী প্রায় কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থবির হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও ট্যাঙ্কার চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এর ফলে বিমা কো ম্পা নিগুলো এই অঞ্চলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করায় আমদানিতে বড় প্রভাব পড়ছে।
বাজারের প্রভাব ও তেল কো ম্পা নিগুলোর লোকসান
সরকারি তেল কো ম্পা নিগুলো (আইওসি, বিপিসিএল, এইচপিসিএল) এখনো সরকারিভাবে কোনো সীমা নির্ধারণ করেনি। তবে অনেক চালকের অভিযোগ, বেশ কিছু সরকারি পাম্পেও অনানুষ্ঠানিকভাবে ১,০০০ টাকার সীমা কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার রোজনেফ্ট নিয়ন্ত্রিত কো ম্পা নিগুলো লোকসান কমাতে গত মাসেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে কো ম্পা নিগুলো বর্তমানে বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছে:
- প্রতি লিটার পেট্রোলে লোকসান হচ্ছে ২৪.৪০ টাকা।
- ডিজেলে লিটারপ্রতি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০৪.৯৯ টাকা।
- ২০২৪ সালের মার্চের পর সরকারি শোধনাগারগুলো আর দাম সমন্বয় করেনি।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বিশ্লেষণ
বেসরকারি পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ সীমিত হওয়ায় চাপ বাড়ছে সরকারি পাম্পগুলোর ওপর। আমদানিকৃত তেলের উচ্চমূল্য এবং খুচরা বাজারে স্থিতিশীল দামের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। যদি সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একঝলকে
- রিলায়েন্সের পাম্পে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকার তেল মিলবে।
- হরমুজ প্রণালী সংকটের কারণে ভারতে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও ভারতে গত মার্চ থেকে খুচরা দাম অপরিবর্তিত।
- তেল কো ম্পা নিগুলো পেট্রোল ও ডিজেলে বিশাল পরিমাণ আর্থিক লোকসান দিচ্ছে।
- আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি মজুত করা বন্ধ করতে এই রেশনিং ব্যবস্থা।