১৯ বছরেই মন্ত্রী, জেল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর গদি: সম্রাট চৌধুরীর জীবনের হার মানানো রূপকথা!

বিহারের রাজনীতিতে সম্রাট চৌধুরী এখন এক অতি পরিচিত নাম। কিন্তু ক্ষমতার শীর্ষ সোপানে পৌঁছানোর এই পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। একসময় যে রাজনীতি শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, আজ সেই সম্রাট চৌধুরীই বিহারের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। তার এই যাত্রাপথে রয়েছে নাটকীয় উত্থান-পতন, আইনি লড়াই এবং অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন।
১৯ বছর বয়সেই মন্ত্রীত্বের স্বাদ ও মহাবিবাদ
সম্রাট চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল উত্তরাধিকার সূত্রে। রাবড়ি দেবীর সরকারে তিনি যখন কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। এই বয়সে মন্ত্রী হওয়া যেমন বড় কৃতিত্ব ছিল, তেমনি এটিই তার জীবনের সবথেকে বড় বিবাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর না হওয়ায় বিরোধীরা সরব হয়ে ওঠে। সমতা পার্টির নেতারা অভিযোগ তোলেন যে, সম্রাট জাল নথিপত্রের মাধ্যমে নিজের বয়স বেশি দেখিয়েছেন।
বরখাস্ত ও জালিয়াতির মামলা
বিবাদ যখন চরমে পৌঁছায়, তৎকালীন রাজ্যপাল কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন। বয়সের অসঙ্গতি এবং জালিয়াতির অভিযোগে সম্রাট চৌধুরীকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করা হয়। বিষয়টি কেবল পদ হারানোতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; জাল নথিপত্র তৈরি এবং প্রতারণার দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এমনকি আদালতের পক্ষ থেকে তাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলে তখন রব উঠেছিল যে, সম্রাটের ক্যারিয়ার হয়তো শুরুতেই শেষ হয়ে গেল।
পুরানো শত্রু যখন নতুন মিত্র
মজার বিষয় হলো, আজ যে বিজেপি তাকে রাজ্যের শীর্ষ পদে বসিয়েছে, নব্বইয়ের দশকে সেই বিজেপিই তার বয়সের বিতর্কে সবথেকে সোচ্চার ছিল। নথিপত্র অনুযায়ী তিনি কোথাও নাবালক আবার কোথাও মন্ত্রী হওয়ার যোগ্য প্রাপ্তবয়স্ক—এই দ্বিচারিতা তাকে দীর্ঘদিন আইনি বেড়াজালে আটকে রেখেছিল। কিন্তু রাজনীতিতে চিরস্থায়ী শত্রু বা মিত্র বলে কিছু নেই। সময়ের সাথে সাথে সম্রাট চৌধুরী নিজেকে বদলেছেন এবং বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
ফিনিক্স পাখির মতো প্রত্যাবর্তন
বিগত দিনের সেই কলঙ্ক এবং আইনি লড়াইকে পেছনে ফেলে সম্রাট চৌধুরী আজ বিহারের শাসনভার গ্রহণ করেছেন। চার-চারটি রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করলেও নিজের দক্ষতা এবং জনভিত্তি প্রমাণ করে তিনি আজ অপ্রতিরোধ্য। জেল এবং আদালতের বারান্দা থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী বা উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদের এই সফর প্রমাণ করে যে, কৌশল আর ধৈর্য থাকলে রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই।
একঝলকে
- রাবড়ি দেবীর আমলে মাত্র ১৯ বছর বয়সে মন্ত্রী হয়েছিলেন।
- মন্ত্রীত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বয়সের অভাবে পদ হারান।
- জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় জেল এবং আইনি লড়াইয়ের সম্মুখীন হন।
- দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর বিজেপিতে যোগদান এবং বিশ্বস্ততা অর্জন।
- চরম প্রতিকূলতা কাটিয়ে আজ বিহারের ক্ষমতার অন্যতম নিয়ন্ত্রক।