কিছু না করেই বছরে আয় ৬৫ লাখ টাকা! বিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত এই চাকরির গল্প শুনলে চমকে যাবেন

কিছু না করেই বছরে আয় ৬৫ লাখ টাকা! বিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত এই চাকরির গল্প শুনলে চমকে যাবেন

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে অর্থ উপার্জনের জন্য যখন মানুষ দিনরাত পরিশ্রম করছে, তখন জাপানের এক ব্যক্তি সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটে বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। শোজি মোরিমোটো নামের এই ব্যক্তি কোনো কাজ না করেই বছরে আয় করছেন প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও টোকিওতে ‘ডু নাথিং রেন্ট-এ-ম্যান’ হিসেবে তিনি এখন ব্যাপক জনপ্রিয়। মূলত নিঃসঙ্গতা দূর করতে একজন মানুষের পাশে কেবল মৌনভাবে উপস্থিত থাকাই তার প্রধান কাজ।

কে এই রেন্টাল ম্যান

টোকিও নিবাসী শোজি মোরিমোটো ২০১৮ সালে এক অভিনব পরিষেবার কথা ঘোষণা করেন। তিনি নিজেকে ‘ভাড়ায় পাওয়া যায়’ এমন এক ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেন, যিনি গ্রাহকের প্রয়োজনে কেবল সঙ্গ দেবেন কিন্তু নিজে কোনো কাজ করবেন না। জাপানে এই বিচিত্র পেশার মাধ্যমে তিনি এখন একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তার এই পরিষেবার মূল শর্ত হলো—তিনি গ্রাহকের পাশে থাকবেন, কিন্তু কোনো কথা বলবেন না এবং কোনো কায়িক পরিশ্রমের কাজও করবেন না।

কাজের অদ্ভুত সব নিয়ম ও শর্ত

মোরিমোটোর এই চাকরিতে কোনো নির্দিষ্ট কাজের চাপ নেই, বরং কাজ না করাই তার প্রধান দায়িত্ব। তার পরিষেবার প্রধান দিকগুলো হলো:

  • নীরবতা পালন: গ্রাহকের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তিনি কেবল পাশে বসে থাকবেন। অপ্রয়োজনে কোনো কথা বলবেন না।
  • পরামর্শ দেওয়া থেকে বিরত থাকা: তিনি কাউকে কোনো উপদেশ দেন না বা কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেন না।
  • শারীরিক শ্রম বর্জন: বাড়ির কাজ করা, ভারী জিনিস তোলা বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মতো কোনো কাজে তিনি হাত দেন না।
  • নিছক উপস্থিতি: একজন মানুষ পাশে আছেন—গ্রাহককে কেবল এই অনুভূতিটুকু দেওয়াই তার একমাত্র লক্ষ্য।

কেন মানুষ তাকে ভাড়া করছেন

আধুনিক যান্ত্রিক জীবনে একাকীত্ব যখন মানুষকে গ্রাস করছে, তখনই মোরিমোটোর মতো মানুষের চাহিদা বাড়ছে। মানুষ কেন তাকে খুঁজছেন, তার পেছনে রয়েছে গভীর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ:

  • সঙ্গের অভাব: রেস্তোরাঁয় একা বসে খেতে যারা অস্বস্তি বোধ করেন, তারা মোরিমোটোকে সাথে নিয়ে যান।
  • মানসিক সাহস: হাসপাতালে যাওয়া বা পার্কে হাঁটার সময় যারা একা বোধ করেন, তাদের জন্য তিনি একজন সাক্ষী ও সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থাকেন।
  • বিচারহীন উপস্থিতি: বর্তমান সমাজে মানুষ অনেক সময় নিজের কথা কাউকে বলতে ভয় পায়। মোরিমোটো যেহেতু কোনো বিচার বা সমালোচনা করেন না, তাই তার পাশে থাকাতে মানুষ এক ধরনের মানসিক স্বস্তি খুঁজে পায়।

আয়ের খতিয়ান ও প্রভাব

মোরিমোটো তার প্রতিবার পরিদর্শনের জন্য প্রায় ৬,০০০ টাকা (ভারতীয় মুদ্রার সমতুল্য) পারিশ্রমিক নেন। জাপানে এই পরিষেবার চাহিদা এতটাই যে, বর্তমানে বছরে তার গড় আয় প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা। কর্মব্যস্ত সমাজব্যবস্থায় একাকীত্বের সমাধান যে এমন বিচিত্র উপায়ে হতে পারে, তা মোরিমোটো প্রমাণ করে দিয়েছেন। তার এই কাজ মানুষের মানসিক নিঃসঙ্গতা দূর করার এক অনন্য সামাজিক মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একঝলকে

  • ব্যক্তির নাম: শোজি মোরিমোটো।
  • পরিষেবার নাম: ডু নাথিং রেন্ট-এ-ম্যান।
  • মূল কাজ: চুপচাপ গ্রাহকের পাশে বসে সঙ্গ দেওয়া।
  • বার্ষিক আয়: প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা।
  • চাহিদার কারণ: একাকীত্ব দূর করা এবং বিচারহীন সান্নিধ্য পাওয়া।
  • শর্ত: কোনো কাজ করা বা উপদেশ দেওয়া যাবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *