এসি লাগবে না, বিদ্যুৎ বিলও জিরো! ৩০০০ বছরের পুরনো ভারতীয় ‘টেরাকোটা’ ম্যাজিকেই ঘর হবে হিমশীতল

তীব্র দাবদাহে যখন সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত, তখন স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে ভারতের ৩,০০০ বছরের প্রাচীন এক প্রযুক্তি। সিন্ধু সভ্যতার আমল থেকে প্রচলিত ‘টেরাকোটা কুলিং’ বা পোড়ামাটির এই বিশেষ প্রকৌশল বর্তমানে আধুনিক স্থাপত্যবিদ্যায় নতুন বিপ্লব ঘটাচ্ছে। কোনো প্রকার বিদ্যুৎ ছাড়াই ইনডোর তাপমাত্রা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে সক্ষম এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী।
যেভাবে কাজ করে পোড়ামাটির এই কৌশল
টেরাকোটা মূলত প্রাকৃতিক কাদা দিয়ে তৈরি এক ধরনের বিশেষ মৃৎশিল্প। এটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পুড়িয়ে লালচে বা বাদামী রঙ ধারণ করে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর গায়ের অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্র। এই ছিদ্রগুলো আর্দ্রতা শোষণ করে এবং প্রাকৃতিকভাবে বাষ্পীভূত হওয়ার মাধ্যমে চারপাশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এই বাষ্পীভবন প্রক্রিয়াটি ঠিক সেভাবেই কাজ করে, যেভাবে মানবদেহ থেকে ঘাম বের হওয়ার পর শরীর শীতল হয়।
আধুনিক স্থাপত্যে প্রাচীন প্রযুক্তির ব্যবহার
বর্তমানে বড় বড় অফিস এবং আবাসিক ভবন নির্মাণে ছাদের কংক্রিট স্তরের মাঝে ফাঁপা টেরাকোটা বা মাটির পাত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি একটি শক্তিশালী ‘ইনসুলেশন’ বা তাপ নিরোধক হিসেবে কাজ করে, যা সূর্যের প্রখর তাপকে ঘরের ভেতর পৌঁছাতে বাধা দেয়। ফলে বাইরের তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেলেও ঘরের ভেতর থাকে প্রাকৃতিক শীতলতা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি ব্যবহারের ফলে যেখানে কার্বন নিঃসরণ বেড়ে পরিবেশের ক্ষতি হয়, সেখানে এই পদ্ধতিতে কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গত হয় না।
এক ঝলকে
- তিন হাজার বছরের পুরনো সিন্ধু সভ্যতার এই প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ ছাড়াই ঘর ঠান্ডা রাখা সম্ভব।
- কংক্রিটের ছাদের নিচে মাটির ফাঁপা পাত্র স্তরে স্তরে বসিয়ে তাপ নিরোধক তৈরি করা হয়।
- এটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তুলনায় সাশ্রয়ী এবং এর কোনো পরিবেশগত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
- এই প্রযুক্তিতে প্রাকৃতিকভাবে বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘরের তাপমাত্রা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যায়।