কমিশনের ‘টার্গেট লিস্টে’ সামিম-জাহাঙ্গির! ভোটের আগে ১৪২ কেন্দ্রে অশান্তি রুখতে নজিরবিহীন নজরদারি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফার ভোটে বিক্ষিপ্ত হিংসা ও অনিয়মের অভিযোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ১৪২টি স্পর্শকাতর বিধানসভা কেন্দ্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত ভোটের দিন সম্ভাব্য গোলমাল রুখতে এক বিশাল ‘টার্গেট লিস্ট’ তৈরি করে রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে বিশেষ নির্দেশ পাঠিয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।
নজরদারিতে প্রভাবশালী মুখ
কমিশনের এই তালিকায় একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম উঠে এসেছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা এখন প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে। তালিকায় মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী সামিম আহমেদ, ফলতার নেতা জাহাঙ্গির খান ছাড়াও সন্দেশখালির শেখ শাহজাহান ও শিবপ্রসাদ হাজরার মতো নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভোটারদের ভয় দেখানো বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার আশঙ্কায় এঁদের গতিবিধির ওপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও ধরপাকড়
ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজ্যজুড়ে ধরপাকড় অভিযান তীব্রতর হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার আগেই সতর্কতামূলক গ্রেফতারির সংখ্যা ২৩০০ ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আটক করা হয়েছে ৮০৯ জনকে। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গোলমালকারীদের তালিকা স্থানীয় থানাগুলোতে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন বা এফআইআর দায়ের করার মতো কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।
প্রথম দফার বোমাবাজি ও প্রার্থীদের ওপর হামলার পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই কমিশনের এই বাড়তি সতর্কতা। মূলত অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই প্রভাবশালী নেতাদের ওপর এই আইনি চাপ তৈরি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে ভোটের দিন রাজনৈতিক উত্তেজনা কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
আগামী ৭২ ঘণ্টা পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার আগে ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি তালিকা তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন।
সামিম আহমেদ ও জাহাঙ্গির খানসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতাকে কড়া নজরদারিতে রাখার নির্দেশ।
অশান্তি রুখতে ইতিমধ্যেই রাজ্যে ২৩০০-এর বেশি মানুষকে সতর্কতামূলক গ্রেফতার বা আটক করা হয়েছে।