৩১ বছরের কারাবাস থেকে সোজা বার কাউন্সিলে! যে আদালতের সিঁড়িতে মুক্তির লড়াই লড়েছেন, সেখানেই এবার আইনজীবী পেরারিভালান

৩১ বছরের কারাবাস থেকে সোজা বার কাউন্সিলে! যে আদালতের সিঁড়িতে মুক্তির লড়াই লড়েছেন, সেখানেই এবার আইনজীবী পেরারিভালান

সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী হত্যা মামলায় ৩১ বছর কারাবাসের পর মুক্তি পেয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন এজি পেরারিভালান। এবার জীবনের নতুন এক অধ্যায় শুরু করলেন তিনি। যে আদালতের বারান্দায় তিন দশক ধরে নিজের মুক্তির জন্য লড়াই চালিয়েছেন, সেই মাদ্রাজ হাইকোর্টেই এখন থেকে আইনজীবী হিসেবে মানুষের অধিকার রক্ষায় লড়বেন তিনি। সম্প্রতি তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে নিজের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন তিনি।

কারাগার থেকে আইনি লড়াইয়ের ময়দানে

রাজীব গান্ধী হত্যা মামলায় দীর্ঘ আইনি চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মুক্তি পান পেরারিভালান। দীর্ঘ বন্দী জীবনেও তিনি পড়াশোনা থামিয়ে রাখেননি, বরং আইনের খুঁটিনাটি রপ্ত করেছেন নিজের মামলা লড়তে লড়তেই। জেল জীবনের সেই অভিজ্ঞতা এবং অর্জিত আইনি জ্ঞানকে পুঁজি করেই তিনি এখন পেশাদার আইনজীবীর গাউন গায়ে চাপালেন।

মায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের স্বার্থকতা

ছেলের এই সাফল্যে সবচেয়ে বেশি আবেগাপ্লুত হয়েছেন তার মা অর্ভুদম্মাল। দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে ছেলের মুক্তির জন্য এক আদালত থেকে অন্য আদালতে ঘুরেছেন তিনি। বার্ধক্যকে উপেক্ষা করে সন্তানের ন্যায়বিচারের জন্য তার এই লড়াই তামিলনাড়ুসহ সারা দেশে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। আজ সেই ছেলেই যখন আইনজীবী হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শপথ নিলেন, তখন তাকে এক বড় নৈতিক জয় হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

এই ঘটনার প্রভাব আইনি মহলে বেশ ইতিবাচক। একজন সাবেক বন্দীর এভাবে সমাজের মূলধারায় ফিরে এসে আইন পেশায় নিযুক্ত হওয়া অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনি আইনি লড়াইয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা একজন ব্যক্তি বিচারপ্রার্থীদের জন্য সঠিক দিশারি হয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

ছেলের এই নতুন যাত্রায় দীর্ঘ সংগ্রামী মা অর্ভুদম্মাল আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন।

রাজীব গান্ধী হত্যা মামলায় ৩১ বছর কারাবাসের পর মুক্তিপ্রাপ্ত এজি পেরারিভালান এখন সনদপ্রাপ্ত আইনজীবী।

তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি বার কাউন্সিলে নাম নথিভুক্ত করে মাদ্রাজ হাইকোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি।

যে আদালতে দীর্ঘ তিন দশক নিজের মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন, সেখানেই এখন অন্যের অধিকার রক্ষায় সওয়াল করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *