ভারতের চেয়ে ছোট হলেও ইরানের পেটে ঢুকে যাবে ৮০টি ইজরায়েল! আয়তনে কে বড় আর শক্তিতে কে সেরা?

ভৌগোলিক আয়তনে ভারতের চেয়ে ছোট হলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ইরান এক বিশাল শক্তি। আয়তনের দিক থেকে ইরান এতটাই বিস্তৃত যে এর ভেতরে অনায়াসেই প্রায় ৮০টি ইসরায়েল এঁটে যেতে পারে। দেশটির এই বিশাল ভূখণ্ড এবং ৩১টি প্রদেশ তাদের জন্য এক প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল ও মরুভূমির নিচে লুকিয়ে রাখা শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো ইরানকে কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।
সামরিক জনশক্তি বনাম আধুনিক প্রযুক্তি
সামরিক শক্তির বিচারে দুই দেশের শক্তির উৎস ভিন্ন। ইরানের মূল শক্তি তাদের বিশাল জনবল এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। প্রায় ৬ লক্ষ ১০ হাজার নিয়মিত সেনার এই বাহিনী জনশক্তির দিক থেকে অনেক এগিয়ে। অন্যদিকে, ইসরায়েল সংখ্যার চেয়ে প্রযুক্তিতে বেশি বিশ্বাসী। তাদের অন্যতম প্রধান শক্তি হলো বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ এবং অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তি শক্তি যোগায়।
অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ
বিশাল আয়তনের কারণে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো দেশজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, ফলে এককালীন হামলায় দেশটিকে অচল করা প্রায় আসাম্ভব। বিপরীতে, ইসরায়েল ছোট দেশ হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে অর্থনৈতিকভাবে ইরান কিছুটা দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। মূলত অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তাদের অর্থনীতিকে বারবার সংকটে ফেলে। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক সম্পদ কম থাকলেও মানবসম্পদ ও হাই-টেক প্রযুক্তিতে ইসরায়েল বিশ্বজুড়ে নিজেদের শীর্ষস্থানে ধরে রেখেছে।
এক ঝলকে
- আয়তনের দিক থেকে ইরান ইসরায়েলের চেয়ে প্রায় ৮০ গুণ বড়, যা তাদের প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রদান করে।
- ইরানের মূল শক্তি বিশাল সেনাবাহিনী ও গোপন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, আর ইসরায়েলের ভরসা আয়রন ডোম ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান।
- বিশাল ভূখণ্ডের কারণে ইরানের ওপর সর্বাত্মক হামলা চালানো কঠিন, তবে ইসরায়েল ছোট হওয়ায় তাদের ঝুঁকি বেশি।
- ইরানের অর্থনীতি তেলনির্ভর ও নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত, যেখানে ইসরায়েল হাই-টেক এবং উদ্ভাবনী শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ।