সাধারণ অজিীর্ণ নাকি মারণ রোগ? ইনো-সোডা খেয়ে কালক্ষেপণ, শেষে জানা গেল স্টেজ-৪ ক্যান্সার!

সাধারণ পেটের সমস্যা বা হজমের গোলমালকে আমরা অনেকেই গুরুত্ব দিতে চাই না। সামান্য অস্বস্তি হলেই ইঁনো বা সোডা খেয়ে সাময়িক উপশম খোঁজার চেষ্টা করি। কিন্তু এই অভ্যাস যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ ব্রিটেনের ৬৭ বছর বয়সী লরেন্স ফক্স। দীর্ঘদিনের অবহেলায় তিনি এখন যমে-মানুষে লড়াই করছেন।
সাধারণ উপসর্গ থেকে প্রাণঘাতী রোগ
২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে লরেন্সের হজমে সমস্যা শুরু হয়। যেকোনো খাবার খাওয়ার পর অস্বস্তি এবং দ্রুত মলত্যাগের প্রবণতা দেখা দিচ্ছিল। লরেন্স ভেবেছিলেন এটি তার পুরনো গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা। শোকাতুর পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে তিনি নিজের শরীরের লক্ষণের চেয়ে ঘরোয়া প্রতিকারেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তার ওজন প্রায় ৬ কেজি কমে যায়। চিকিৎসকরা প্রথমে এটিকে সাধারণ ইনফেকশন মনে করে অ্যান্টিবায়োটিক দিলেও আদতে তা ছিল প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেত।
ধরা যখন পড়ল তখন অনেকটা দেরি
নভেম্বর মাসে সিটি স্ক্যানের রিপোর্টে দেখা যায়, লরেন্সের পেটে ৭৫ মিলিমিটারের একটি বিশাল টিউমার বাসা বেঁধেছে। চিকিৎসকরা জানান, তিনি প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারের চতুর্থ পর্যায়ে (Stage-4) রয়েছেন এবং তার হাতে সময় আছে মাত্র ৯ মাস। টিউমারটি প্রধান ধমনীর খুব কাছে থাকায় অস্ত্রোপচার করাও আসাম্ভব বলে ঘোষণা করা হয়।
প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারের সতর্ক সংকেত
প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারকে প্রায়ই ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়, কারণ এর লক্ষণগুলো খুব সাধারণ রোগের মতো দেখায়:
- ক্রমাগত হজমের সমস্যা ও পেটে ব্যথা।
- কোনো কারণ ছাড়াই দ্রুত শরীরের ওজন কমে যাওয়া।
- মলত্যাগের অভ্যাসে আকস্মিক পরিবর্তন (ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য)।
- খাবারে অরুচি এবং ক্লান্তি।
জীবন যুদ্ধের অনুপ্রেরণা
চিকিৎসকদের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সত্ত্বেও লরেন্স হাল ছাড়েননি। তিনি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ১২ রাউন্ড কেমোথেরাপি গ্রহণ করেন। প্রতিটি সেশন প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে চলত। অবিশ্বাস্যভাবে চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে তার টিউমার ৭৫ মিমি থেকে কমে ১৫ মিমি-তে নেমে এসেছে। বর্তমানে তিনি গলফ খেলা ও সাঁতার কাটার মতো স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। তার ছেলে জেমি ক্যানসার সচেতনতায় তহবিল সংগ্রহের জন্য ম্যারাথনেও অংশ নিয়েছেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সতর্কতা
লরেন্সের এই ঘটনা সবার জন্য একটি বড় শিক্ষা। চিকিৎসকদের মতে, পেটের যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনকে অবহেলা করা উচিত নয়। ইঁনো বা সোডা খেয়ে লক্ষণ ধামাচাপা দিলে রোগ আরও গভীরে যাওয়ার সুযোগ পায়। শরীরের ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমতে থাকলে বা হজমের সমস্যা দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
একঝলকে
- রোগী: ৬৭ বছর বয়সী লরেন্স ফক্স।
- ভুল ধারণা: ক্যানসারের লক্ষণকে সাধারণ অজিীর্ণ বা অ্যাসিডিটি ভেবে ভুল করা।
- রোগ: স্টেজ-৪ প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার।
- বর্তমান অবস্থা: কেমোথেরাপির মাধ্যমে টিউমার ৭৫ মিমি থেকে ১৫ মিমি-তে হ্রাস।
- মূল শিক্ষা: দীর্ঘস্থায়ী পেটের সমস্যা ও ওজন কমে যাওয়াকে অবহেলা করবেন না।