এক মিনিটেই কেল্লাফতে! জল বিশুদ্ধ না কি বিষাক্ত? বলে দেবে আপনার স্মার্টফোন

বর্তমানে বিশ্বের একটি বিশাল অংশের মানুষ এমন সব উৎস থেকে জল পান করেন যার বিশুদ্ধতা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। প্রচলিত পদ্ধতিতে জলের মান পরীক্ষা করা বেশ সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। তবে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত নতুন একটি প্রযুক্তি এবার জল পরীক্ষার সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছে। এখন হাতে থাকা স্মার্টফোন ব্যবহার করেই মাত্র এক মিনিটে জেনে নেওয়া যাবে জল পানযোগ্য কি না।
কীভাবে কাজ করবে এই আধুনিক প্রযুক্তি
এই পদ্ধতিতে বিশেষ এক ধরনের ‘টেস্ট স্ট্রিপ’ ব্যবহার করা হয়। এই স্ট্রিপের ওপর জলের এক ফোঁটা দিলেই তাতে উপস্থিত দূষণকারী উপাদানের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু হয়। মূলত মানুষের বর্জ্য বা প্রাণীর উপস্থিতির সংকেত হিসেবে ‘ইউরোবিলিন’ নামক একটি পদার্থকে শনাক্ত করে এই স্ট্রিপ। যদি জলে এই উপাদানটি পাওয়া যায়, তবে বুঝতে হবে সেই জল মারাত্মকভাবে দূষিত।
ড্রপ অ্যান্ড ডিটেক্ট স্মার্টফোন সিস্টেম
প্রযুক্তিটি কাজ করার জন্য স্মার্টফোনের সঙ্গে একটি ছোট অংশ বা ‘অ্যাটাচমেন্ট’ যুক্ত করতে হয় যাতে এলইডি (LED) আলো থাকে। টেস্ট স্ট্রিপে জল দেওয়ার পর যে বিক্রিয়া ঘটে, তার ফলে একটি হালকা আভা বা চকমকানি তৈরি হয়। ফোনের ক্যামেরা সেই আভাটি ধারণ করে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিশ্লেষণ করে জানিয়ে দেয় জলটি নিরাপদ কি না। একে বলা হচ্ছে ‘ড্রপ অ্যান্ড ডিটেক্ট’ প্রযুক্তি।
প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে পার্থক্য ও সুবিধা
আগে জল পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরি, বিভিন্ন রাসায়নিক এবং বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন হতো। রিপোর্ট পেতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু এই নতুন প্রযুক্তি ল্যাবের কাজকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে।
- দ্রুত ফলাফল: ল্যাবের পরিবর্তে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নির্ভুল রেজাল্ট পাওয়া যায়।
- সহজ ব্যবহার: সাধারণ মানুষও কোনো বিশেষজ্ঞের সাহায্য ছাড়াই এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
- নির্ভুলতা: নদী এবং বর্জ্য জল শোধনাগারের নমুনা নিয়ে পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, প্রতিকূল পরিবেশেও এটি অত্যন্ত কার্যকর।
গ্রামীণ ও দুর্যোগকবলিত এলাকায় প্রভাব
এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে সেই সব এলাকায় যেখানে ল্যাবরেটরির সুবিধা নেই। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রত্যন্ত গ্রাম, বন্যা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত এলাকায় মহামারি রুখতে এটি ঢাল হিসেবে কাজ করবে। মানুষ নিজেই দ্রুত জল পরীক্ষা করে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে।
আগামীর সম্ভাবনা
বিজ্ঞানীদের মতে, স্মার্টফোন এবং সেন্সর প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিবর্তন আনবে। বর্তমানে এটি কেবল বর্জ্য শনাক্ত করছে, তবে ভবিষ্যতে অন্যান্য বিষাক্ত ধাতু বা দূষণকারী উপাদান শনাক্ত করার জন্যও এমন সিস্টেম তৈরি করা সম্ভব হবে। এর ফলে জল পরীক্ষা আরও সুলভ ও সহজলভ্য হয়ে উঠবে।
একঝলকে
- স্মার্টফোন ও টেস্ট স্ট্রিপের সাহায্যে এক মিনিটেই জল পরীক্ষা সম্ভব।
- জলে থাকা বর্জ্য বা ইউরোবিলিন নামক ক্ষতিকারক উপাদান শনাক্ত করা হয়।
- ফোনের ক্যামেরা ও এলইডি লাইট ব্যবহার করে দূষণ নির্ণয় করা হয়।
- ল্যাবরেটরির সাহায্য ছাড়াই ঘরে বসে বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে এটি ব্যবহারযোগ্য।
- প্রথাগত পদ্ধতির চেয়ে এটি অনেক বেশি দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং নির্ভুল।