মহাভারতের স্মৃতি ফিরল কলিযুগে! দুই স্বামীকে নিয়ে সুখে সংসার, মা হলেন হিমাচলের সুনীতা

হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলায় প্রচলিত প্রাচীন ‘জোড়িদার’ প্রথা আবারও জনমানসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। গত বছর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করা সুনীতা চৌহান এবং তাঁর দুই স্বামী প্রদীপ নেগি ও কপিল নেগির সংসারে নতুন এক অতিথি আগমন ঘটেছে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও এই বিরল বৈবাহিক ঐতিহ্যের ধারক এই পরিবারটি এখন একটি ফুটফুটে সন্তানের অভিভাবক।
হিমাচলের এই বিশেষ সংস্কৃতিতে একটি পরিবারের দুই বা ততোধিক ভাই মিলে একজন নারীকেই বিবাহ করেন। মূলত পারিবারিক সম্পত্তি ভাগ হওয়া রোধ করতে এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতেই এই প্রাচীন রীতির প্রচলন ছিল। শিক্ষিত ও সচ্ছল পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও প্রদীপ ও কপিল এই ঐতিহ্য মেনে সুনীতাকে বিবাহ করে আধুনিক সমাজকে চমকে দিয়েছিলেন।
উচ্ছ্বসিত দুই পিতা এবং পরিবারের বর্তমান অবস্থা
সন্তানের জন্মের সংবাদ প্রকাশ্যে আসতেই দুই পিতার মধ্যেই চরম আনন্দ পরিলক্ষিত হয়েছে। পরিবারের এই খুশির মুহূর্তটি ভাগ করে নিতে দুই ভাই ভিন্ন দুই প্রান্ত থেকে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।
- সামাজিক মাধ্যমে বার্তা: বর্তমানে কাজের সূত্রে বিদেশে কর্মরত এক পিতা ইন্টারনেটে সন্তানের ছবি পোস্ট করে তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন যে এই শিশুটির আগমনে দুই ভাইয়ের জীবন পূর্ণতা পেল।
- বাড়ি ফেরার ব্যাকুলতা: বিদেশে থাকা পিতা জানিয়েছেন, আগে বাড়ি ফেরার জন্য যতটা না আগ্রহ কাজ করত, সন্তানের জন্মের পর সেই টান বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। নিজের সন্তানকে কোলে নেওয়ার জন্য তিনি এখন দিন গুনছেন।
- স্থানীয় প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর প্রতিবেশীদের পাশাপাশি নেটপাড়াতেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এই প্রাচীন প্রথাকে সামাজিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সমর্থন করছেন, আবার আধুনিক যুগের নিরিখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট
হিমাচলের সিরমৌর এলাকায় এক সময় ‘জোড়িদার’ প্রথা খুবই সাধারণ বিষয় ছিল। সময়ের সাথে সাথে এই প্রথা বিলুপ্তির পথে গেলেও প্রদীপ ও কপিলের পরিবার সেই ঐতিহ্যকে পুনর্জীবিত করেছে। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবকদের এমন সিদ্ধান্ত গত বছর জাতীয় স্তরে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বর্তমানে পরিবারে নতুন সদস্যের আগমনে তাদের এই জীবনশৈলী আবারও নতুন করে সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
একঝলকে
বর্তমান পরিস্থিতি: এক পিতা বিদেশে থাকলেও ইন্টারনেটের মাধ্যমে আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন এবং পরিবারে এখন উৎসবের মেজাজ।
ঘটনাস্থল: সিরমৌর জেলা, হিমাচল প্রদেশ।
মূল ঘটনা: জোড়িদার প্রথায় বিবাহিত দম্পতির ঘরে সন্তানের জন্ম।
পরিবার: দুই ভাই (প্রদীপ ও কপিল) এবং এক স্ত্রী (সুনীতা)।
প্রথার নাম: জোড়িদার বা বহুস্বামী প্রথা।