বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের হাহাকার, আর এরই মাঝে ৫০ বিলিয়ন ডলার লুটল মার্কিন ব্যাংকগুলো!

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে তেলের বাজার নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংকগুলো আয়ের নতুন রেকর্ড গড়ছে। ভূ-রাজনৈতিক সংকটের ফলে সৃষ্ট বাজারের অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে জেপি মরগান এবং মরগান স্ট্যানলির মতো মার্কিন ব্যাংকগুলো প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের মুনাফা সংগ্রহ করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে আশঙ্কার কালো মেঘ তৈরি করলেও বিনিয়োগ খাতের বড় খেলোয়াড়দের জন্য এটি কার্যত এক ‘কুবেরের ধন’ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বাজারের অস্থিরতা যখন আয়ের উৎস
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজার বর্তমানে চরম অস্থির। অপরিশোধিত তেলের দামের উথাল-পাথাল এবং বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা ব্যাংকগুলোর ট্রেডিং ডেস্কের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার কেনাবেচা করেন, তখন ব্যাংকগুলোর ট্রেডিং রেভিনিউ বা লেনদেনজনিত আয় লাফিয়ে বাড়ে। জেপি মরগান এবং মরগান স্ট্যানলির ইক্যুইটি ও বন্ড ট্রেডিং বিভাগ থেকে প্রাপ্ত আয় বিশ্লেষকদের সব পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে। বাজারের এই অস্থিরতাই ব্যাংকগুলোর জন্য মোটা অঙ্কের কমিশন ও ফি নিশ্চিত করছে।
সুদের হার এবং নিরাপদ বিনিয়োগের কৌশল
যুদ্ধের পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের (Safe Havens) খোঁজে থাকেন। এছাড়া বৈশ্বিক উত্তেজনার কারণে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে। উচ্চ সুদের হারের অর্থ হলো, ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়ে বেশি মুনাফা (Net Interest Income) অর্জন করছে। জেপি মরগানের সিইও জেমি ডিমন যদিও যুদ্ধকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ বলেছেন, তবে তার প্রতিষ্ঠানের ব্যালেন্স শিট বলছে ব্যাংকটি এই সংকটের মধ্যেও লাভবান হওয়ার সব কৌশল আয়ত্ত করেছে।
কর্পোরেট তহবিল সংগ্রহ ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং
ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় অনেক বড় কো ম্পা নি এই সময়ে বিশাল অঙ্কের তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছে। কো ম্পা নিগুলোর বন্ড ইস্যু করা বা বড় ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় এই ব্যাংকগুলো ‘আন্ডাররাইটার’ হিসেবে কাজ করে এবং বিশাল অংকের ফি আদায় করে। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং ও ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট খাতে শক্তিশালী অবস্থানের কারণে বিশেষ করে মরগান স্ট্যানলি এই প্রান্তিকে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে।
মুনাফার পেছনে লুকিয়ে থাকা ঝুঁকি
বিশাল অঙ্কের এই মুনাফাকে বিশেষজ্ঞরা দুধারী তলোয়ারের সঙ্গে তুলনা করছেন। যদি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়তে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে ভবিষ্যতে ঋণ খেলাপি হওয়ার (Bad Loans) ঝুঁকি বাড়বে। এই আশঙ্কায় ব্যাংকগুলো তাদের অর্জিত মুনাফার একটি বড় অংশ নিরাপত্তা সঞ্চিতি হিসেবে আলাদা করে রাখছে।
একঝলকে
- ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন ব্যাংকগুলোর রেকর্ড ৫০ বিলিয়ন ডলার মুনাফা।
- বাজারের অস্থিরতায় জেপি মরগান ও মরগান স্ট্যানলির ট্রেডিং আয় বেড়েছে।
- উচ্চ সুদের হার এবং নিরাপদ বিনিয়োগ কৌশল ব্যাংকগুলোর নিট আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
- কো ম্পা নিগুলোর তহবিল সংগ্রহের হিড়িক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং খাতের আয় বাড়িয়েছে।
- দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ এবং মুদ্রাস্ফীতি ভবিষ্যতে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।