রাজ্যসভার পেনশন প্রত্যাখ্যান বিকাশরঞ্জনের, নেপথ্যে কী কারণ?

রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রাপ্য পেনশন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিপিআইএম নেতা ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সম্প্রতি তিনি রাজ্যসভার মহাসচিবকে চিঠি লিখে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তাঁর এই পদক্ষেপের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। একজন প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে আইনিভাবে পেনশন পাওয়ার অধিকার থাকলেও, তা গ্রহণ না করার এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও আগামীর লক্ষ্য
নিজের ব্যক্তিগত পরিচয় ও পেশাগত ব্যস্ততাকে ছাপিয়ে রাজনীতির ময়দানে চিরকালই আপসহীন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। রাজ্যসভার পাঠ চুকে গেলেও তিনি এখন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে মাঠে নেমেছেন। যাদবপুর কেন্দ্র থেকে বামফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন তিনি। সাড়ে চুয়াত্তর বছর বয়সেও তাঁর এই কর্মতৎপরতা যাদবপুরের হারানো বাম দুর্গ পুনরুদ্ধারে নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। পেশাদার আইনজীবী হিসেবে নিজের কাজ এবং দলীয় কর্মসূচির মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রেখেই তিনি এখন প্রচারের গতি বাড়িয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি কোনো কারণ দর্শানো না হলেও, এই পেনশন প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে তিনি একাধারে আত্মনির্ভরশীলতার বার্তা দিয়েছেন এবং রাজনৈতিক স্বচ্ছতার নজির স্থাপন করেছেন। সিপিআইএম তথা বাম রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে বিকাশরঞ্জনের এই অবস্থান দল ও সমর্থক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ব্যক্তিগত স্বচ্ছতাকে সামনে রেখে নির্বাচনী ময়দানে লড়তে নামা এই নেতা এখন যাদবপুরবাসীর রায় পাওয়ার অপেক্ষায়।
এক ঝলকে
- রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রাপ্য পেনশন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।
- ইতিমধ্যে রাজ্যসভার মহাসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে নিজের ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন প্রাক্তন এই সাংসদ।
- বর্তমানে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতিতে যাদবপুর কেন্দ্রে জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি।
- আইনজীবী হিসেবে নিজের প্রতিষ্ঠিত পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক সততা ও স্বচ্ছতার বার্তা দিতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।