ট্রাইব্যুনালের ছাড়পত্র থাকলেই মিলবে ভোটদানের অধিকার, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের!

ভোটার তালিকা বিতর্ক: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মিলল স্পষ্ট নির্দেশিকা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটাল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে জানিয়ে দিয়েছে, একমাত্র আপিল ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়া ব্যক্তিরাই আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। আদালত স্পষ্ট করেছে, শুধু আপিল দায়ের করলেই হবে না, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ হাতে থাকাই ভোটদানের পূর্বশর্ত। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার কোনো আবেদন মঞ্জুর করেনি।
ভোটদানের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফার ভোটগ্রহণের অন্তত দুই দিন আগে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত নির্দেশ মিলতে হবে। যেমন, আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের ক্ষেত্রে ২১ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের ক্ষেত্রে ২৭ এপ্রিলের মধ্যে এই ছাড়পত্র পাওয়া বাধ্যতামূলক। ট্রাইব্যুনালের অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনকে তড়িঘড়ি ‘সম্পূরক সংশোধিত ভোটার তালিকা’ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
এই কঠোর অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া। গত ২০ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৭ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল। বর্তমানে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল প্রায় ৩৪ লক্ষ আপিলের শুনানি চালাচ্ছে। আদালত ৯০০ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকের স্বল্প সময়ে ৬০ লক্ষ আপত্তির নিষ্পত্তির কাজকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, নির্ভুল ও স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বার্থেই এই কড়াকড়ি জরুরি। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণে আইনি নিশ্চয়তা তৈরি হবে।
এক ঝলকে
- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত নির্দেশই ভোটদানের একমাত্র বৈধ নথি।
- প্রথম দফার ভোটের জন্য ২১ ও দ্বিতীয় দফার জন্য ২৭ এপ্রিলের মধ্যে রায় পেতে হবে।
- অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় ভোট দেওয়ার অনুমতি খারিজ করেছে সর্বোচ্চ আদালত।
- প্রায় ৩৪ লক্ষ আপিলের নিষ্পত্তিতে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে কর্মরত রয়েছে।