ছত্তিশগড়ে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণ, বেদান্ত কর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের!

ছত্তিশগড়ে বয়লার বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ২০, বেদান্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা
ছত্তিশগড়ের শক্তি জেলায় বেদান্ত গোষ্ঠীর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০। মঙ্গলবারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক হতাহত হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং প্রাথমিক তদন্তে কারখানায় গুরুতর গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় বেদান্ত গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়াল, সংস্থার ম্যানেজার দেবেন্দ্র প্যাটেলসহ ৮ থেকে ১০ জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ছত্তিশগড় পুলিশ।
অবহেলিত নিরাপত্তা ও অতিরিক্ত চাপের জের
পুলিশ ও ফরেন্সিক রিপোর্ট অনুযায়ী, কারখানায় যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণে চরম অবহেলা এবং মানহীন যন্ত্রপাতি ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে বয়লারের ক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল—যেখানে ৩৫০ মেগাওয়াট উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল, সেখানে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছিল ৫৯০ মেগাওয়াটে। এই অতিরিক্ত চাপের কারণেই উচ্চচাপের বাষ্প বহনকারী পাইপ ফেটে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৬, ২৮৯ এবং ৩-এর ৫ ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
তদন্তের স্বার্থে অতিরিক্ত এসপি পঙ্কজ প্যাটেলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে নিহতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিলাসপুর ডিভিশনাল কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৃথক দুটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া এবং সরকারি নির্দেশ অমান্য করার দায়ে বেদান্ত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি তুলেছে স্থানীয় জনতা ও বিরোধী দল।
এক ঝলকে
- ছত্তিশগড়ে বয়লার বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জন।
- বেদান্তের চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়ালের বিরুদ্ধে ৮-১০ জন কর্মকর্তার সঙ্গে মামলা দায়ের।
- অতিরিক্ত উৎপাদনের চাপে পাইপ ফেটে বিস্ফোরণের নেপথ্যে চরম রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার অভাব।
- ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন ও জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত শুরু।