ভোটের লড়াইয়ে সামিল দৃষ্টিহীনরাও, ব্রেইল পদ্ধতিতে ছাপা হচ্ছে বিশেষ ভোটার স্লিপ!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে যাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তার জন্য এক অনন্য পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের দৃষ্টিহীন ভোটারদের জন্য এবার ব্রেইল পদ্ধতিতে বিশেষ ভোটার স্লিপ ছাপানোর কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোটাররা নিজেরাই স্পর্শের সাহায্যে প্রার্থীদের নাম, বয়স এবং যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। আগে ইভিএম মেশিনে ব্রেইল সংকেত থাকলেও, ভোট দেওয়ার আগে ভোটার স্লিপ পড়ার এই সুযোগ এবারই প্রথম ব্যাপকভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ব্রেইল প্রেসের প্রস্তুতি
রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের এই বিপুল কর্মযজ্ঞ সামলাচ্ছে তিনটি প্রধান ব্রেইল প্রেস। এর মধ্যে বেহালা, বারুইপুর এবং নরেন্দ্রপুরের প্রেসগুলোতে দিনরাত এক করে কাজ চলছে। বিশেষ করে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ব্রেইল প্রেসে ১৯৩টি কেন্দ্রের স্লিপ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য গড়ে ২০০ থেকে ২৫০টি করে ব্রেইল স্লিপ তৈরি করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বিশাল পরিমাণ কাজ শেষ করতে পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে কর্মীদের অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে।
প্রযুক্তির মেলবন্ধনে সহজতর ভোটাধিকার
নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগের ফলে দৃষ্টিহীন ভোটারদের অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমবে। আগে ব্যালট পেপার বা ইভিএমের পাশে ব্রেইল নির্দেশিকা থাকলেও ভোটার স্লিপ পড়ার সুযোগ ছিল না। এখন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগেই ভোটাররা নিজেদের প্রার্থী সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাবেন। শুক্রবার থেকেই প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে এই বিশেষ স্লিপগুলো পৌঁছাতে শুরু করেছে। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত সংযোজন নয়, বরং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তি ও সমমর্যাদা নিশ্চিত করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ।
এক ঝলকে
- দৃষ্টিহীন ভোটারদের সুবিধার্থে এবার ব্রেইল পদ্ধতিতে বিশেষ ভোটার স্লিপ ছাপানো হচ্ছে।
- পশ্চিমবঙ্গের ১৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একাই কাজ করছে নরেন্দ্রপুর ব্রেইল প্রেস।
- প্রতিটি স্লিপে প্রার্থীদের নাম, বয়স ও যোগ্যতা সম্পর্কিত তথ্য ব্রেইল সংকেতে থাকছে।
- নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতেই কমিশনের এই বিশেষ উদ্যোগ।