ভোটের পর কোথায় যাবেন? বারুইপুরের সভা থেকে স্থানীয় পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারি মমতার

ভোটের পর কোথায় যাবেন? বারুইপুরের সভা থেকে স্থানীয় পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারি মমতার

রাজ্যের বর্তমান পুলিশি ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের এক নির্বাচনী জনসভা থেকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে কার্যত নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটের আবহে স্থানীয় পুলিশ কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনে অতিমাত্রায় নমনীয় আচরণ করছে। পুলিশের এই পরিবর্তনশীল মনোভাবকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।

পুলিশের নিরপেক্ষতা ও মমতার ক্ষোভ

বক্তৃতার সময় সরাসরি পুলিশের একাংশের সমালোচনা করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা পুলিশ কর্মীরা এখন কেন্দ্রীয় জওয়ানদের দেখলে মাথা নত করছেন। তার মতে, বর্তমানে পুলিশ রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই ভেবেই হয়তো এই আচরণ করছে। তবে এই পরিস্থিতি যে চিরস্থায়ী নয়, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের এই প্রক্রিয়া আর মাত্র দুই-তিন সপ্তাহ চলবে। এরপর পুলিশের গন্তব্য কোথায় হবে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল নিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় সংস্থাকে আক্রমণ ও রাজনৈতিক বার্তা

পুলিশের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষককে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি একে ‘আসাম রাজনৈতিক লড়াই’ বলে অভিহিত করেন। এছাড়াও বিজেপি এবং তাদের মদতপুষ্ট নির্দল প্রার্থীদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ভোটারদের সতর্ক করেন। নোটবন্দি ও আধার সংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বিজেপিকে ‘বেলাইন’ করার ডাক দিয়েছেন।

এই বার্তার মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্বাচনের পর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুনরায় ফিরে এলে পুলিশি কর্মকাণ্ডের হিসাব নেওয়া হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে তৃণমূল কর্মীদের মনোবল বাড়ানো এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বার্তা দিতেই এই কড়া অবস্থান নিয়েছেন মমতা।

এক ঝলকে

  • বারুইপুরের সভা থেকে স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া অসন্তোষ ও হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনে পুলিশের নমনীয় আচরণের কড়া সমালোচনা করে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
  • নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা নতুন ডিজিপি এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
  • বিজেপিকে রুখতে এবং নির্দল প্রার্থীদের বর্জন করতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *