হিমন্তের গোমাংস মন্তব্যে উত্তপ্ত রাজনীতি, সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগে কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল

নির্বাচনী মরসুমে উত্তরের জেলা কোচবিহারে হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কোচবিহার-১ ব্লকের ফলিমারিতে আয়োজিত এক জনসভা থেকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি-র তারকা প্রচারক হিমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে গোমাংস বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে। তৃণমূলের ‘বিজেপি আমিষ বিরোধী’ প্রচারের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে তিনি মূলত মাছ ও মাংসের পার্থক্যের ওপর জোর দেন। হিমন্তের এই বক্তব্যকে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক ও মানহানিকর দাবি করে শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
মেরুকরণ ও সাম্প্রদায়িক সংঘাতের অভিযোগ
তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মা ভোটারদের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন। ঘাসফুল শিবিরের মতে, ইদের সময় হিন্দু বাড়িতে গোমাংস রাখা নিয়ে হিমন্তের দেওয়া উদাহরণ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গোরু পাচারে মদত দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। শাসক দলের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার এক সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করতে কমিশনের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছে তারা।
অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত সুরক্ষায় কড়া বার্তা
ধর্মীয় অনুষঙ্গের পাশাপাশি হিমন্তের নিশানায় ছিল অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত পাচার সমস্যা। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার জমি না দেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর কাজ সম্পূর্ণ হচ্ছে না। অনুপ্রবেশ রুখতে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ত্রিপুরা, আসাম ও বাংলার জন্য একটি অভিন্ন সীমানা তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এই সীমানায় কেবল সাধারণ বেড়া নয়, বরং ‘ইলেকট্রিক ফেন্সিং’ বা বৈদ্যুতিক বেড়া বসানোর প্রস্তাব দেন তিনি, যা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য কড়া হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হিমন্তের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের মূলে রয়েছে ভোটব্যাংকের মেরুকরণ ও হিন্দুত্ববাদী অ্যাজেন্ডাকে জোরালো করা। অন্যদিকে, তৃণমূল এটিকে হাতিয়ার করে ভোটারদের কাছে বিজেপির ‘বিভেদকামী’ চরিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে ধর্মীয় ও জাতীয় সুরক্ষা ইস্যু যে প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে চলেছে, তা এই বিতর্ক থেকে স্পষ্ট।
এক ঝলকে
- কোচবিহারের জনসভায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে গোমাংস বন্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
- সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও মুখ্যমন্ত্রীর মানহানির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানাল তৃণমূল।
- সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও পাচার রুখতে ‘ইলেকট্রিক ফেন্সিং’ করার প্রতিশ্রুতি আসামের মুখ্যমন্ত্রীর।
- বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ধর্মীয় ও সীমান্ত ইস্যুতে সরগরম কোচবিহারের রাজনীতি।