অশ্লীল চ্যাটিংয়ের আড়ালে রমরমা কারবার, নিজ মাকে অনৈতিক পেশায় যেতে বাধ্য করল গুণধর ছেলে!

অশ্লীল চ্যাটিংয়ের আড়ালে রমরমা কারবার, নিজ মাকে অনৈতিক পেশায় যেতে বাধ্য করল গুণধর ছেলে!

প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সমাজকে কলুষিত করার এক নজিরবিহীন ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলায়। সাধারণত বড় শহরগুলোতে এমন অপরাধের খবর মিললেও এবার তেনালি শহরের পাণ্ডুরঙ্গপেট এলাকার একটি বাড়িতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। সেখানে অনলাইনের মাধ্যমে নগ্ন প্রদর্শনী ও অশ্লীল চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ ব্যবসা চালানো হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই চক্রটির পর্দাফাঁস করে।

ছেলের হাতেই মায়ের সম্ভ্রম হরণ

তদন্তে উঠে আসা সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, এই অনৈতিক কারবারের মাস্টারমাইন্ড বা মূল হোতা সাই নামের এক যুবক। সে অর্থের লালসায় নিজের ৪৪ বছর বয়সী মা এবং ৫৪ বছর বয়সী এক আত্মীয়কে এই অন্ধকার জগতে টেনে আনে। গ্রাহক ধরা থেকে শুরু করে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক লেনদেন—সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করত ওই যুবক। তার নির্দেশেই ভুক্তভোগী নারীরা একটি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে আপত্তিকর কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে বাধ্য হতেন।

তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা

গুন্টুর জেলার পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা এই এলাকায় প্রথম। তারা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগী দুই নারীকে এই চক্রের শিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমানে মূল অভিযুক্ত সাই পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি এবং অনলাইন পোর্টালটির বিষয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাবে।

সাইবার অপরাধের এই নতুন ধরন সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে এ ধরনের অনলাইন ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এক ঝলকে

  • অন্ধ্রপ্রদেশের তেনালি শহরে অনলাইন অশ্লীল চ্যাটিং ও ব্ল্যাকমেলিং চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।
  • নিজের মা ও এক আত্মীয়কে এই অনৈতিক কাজে বাধ্য করেছে সাই নামের এক যুবক।
  • পুলিশ দুই নারীকে ‘ভিকটিম’ হিসেবে গণ্য করেছে এবং মূল অভিযুক্তের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।
  • প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাইবার অপরাধের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনকে কেন্দ্র করে এই ঘৃণ্য কারবার চলছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *