অমানুষিক লালসার শিকার ডাচ নারী, স্ত্রীর শরীরে ২৫০ বার নিজের নাম খোদাই করলেন স্বামী!

নেদারল্যান্ডসের ৫২ বছর বয়সী জোকে নামের এক নারীর জীবনে নেমে আসা পৈশাচিক নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘ বছর ধরে নিজের স্ত্রীকে মানুষ হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তিগত ‘সম্পত্তি’ হিসেবে বিবেচনা করে তার ওপর চরম মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন চালিয়েছেন তার স্বামী। আধুনিক সভ্য সমাজে এই ঘটনাটি বিকৃত মানসিকতার এক চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ভয়াল নির্যাতনের চিত্র
অভিযুক্ত ব্যক্তি তার আধিপত্য জাহির করতে স্ত্রীর শরীরের ৯০ শতাংশ অংশে নাম ও অবমাননাকর স্লোগান খোদাই করে দিয়েছেন। মুখমণ্ডল, ঘাড়, হাত এবং পিঠসহ শরীরের সংবেদনশীল স্থানগুলোতেও প্রায় ২৫০ বার নিজের নাম এবং ‘অমুকের সম্পত্তি’ (Property of…) লিখে ট্যাটু করিয়েছেন। অনলাইনে কেনা সস্তা ট্যাটু মেশিন দিয়ে বছরের পর বছর ধরে জোকে-র ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই নির্যাতন চালানো হয়। প্রতিবাদ করলেই জুটত শারীরিক লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকি।
নতুন জীবনের লড়াই
এই বিষাক্ত সম্পর্ক থেকে অবশেষে মুক্তি পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন জোকে। বর্তমানে তিনি লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে শরীর থেকে সেই দুঃসহ স্মৃতি বা ট্যাটুগুলো মুছে ফেলার চেষ্টা করছেন। এই দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়ায় তাকে সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন নেটিজেনরা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার ডলার অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ঘটনাটি মূলত সম্পর্কে অবদমন ও আধিপত্য বিস্তারের এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিকে নির্দেশ করে, যার প্রভাব ভুক্তভোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করেছে।
এক ঝলকে
- নেদারল্যান্ডসের ৫২ বছর বয়সী নারী জোকে তার স্বামীর হাতে দীর্ঘমেয়াদী পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
- জোকে-র শরীরে প্রায় ২৫০ বার নিজের নাম ও মালিকানাসূচক শব্দ ট্যাটু হিসেবে খোদাই করেছেন অভিযুক্ত স্বামী।
- বর্তমানে লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে শরীর থেকে ৯০ শতাংশ ট্যাটু অপসারণের চেষ্টা করছেন ভুক্তভোগী নারী।
- চিকিৎসার খরচ মেটাতে বিশ্বজুড়ে নেটিজেনরা প্রায় ৩৫ হাজার ডলার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।