প্রচারে গিয়ে বিপাকে তাপস রায়, থানায় অভিযোগের দায়ের

মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে প্রবল বিতর্কে জড়ালেন বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়। কলকাতার ফুলবাগান থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দুটি পৃথক আবাসনের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আবাসনের নিজস্ব বিধিনিষেধ অমান্য করে এবং কোনো পূর্ব অনুমতি ছাড়াই দলবল নিয়ে ভেতরে ঢুকে প্রচার চালিয়েছেন এই প্রবীণ রাজনীতিক।
নিরাপত্তারক্ষীদের শাসানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ
৩১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি আবাসনের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেওয়া সত্ত্বেও জোর করে ভেতরে প্রবেশ করেন বিজেপি প্রার্থী। শুধু তাই নয়, কর্তব্যরত কর্মীদের সঙ্গে তিনি অত্যন্ত কুরুচিকর আচরণ এবং তাঁদের রীতিমতো শাসানি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্য একটি আবাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের প্রতিনিধিকে ফোনে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেছেন প্রার্থী, যা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী।
অভিযোগ অস্বীকার ও রাজনৈতিক লড়াই
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ‘মিথ্যাচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তাপস রায়। তাঁর দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে কেউ আনতে পারেনি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই এসব করা হচ্ছে। লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এই হেভিওয়েট প্রার্থীর পাল্টা দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির ভয় পেয়েই এই ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তৃণমূলের প্রয়াত নেতা সাধন পাণ্ডের কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডের বিরুদ্ধে এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে এমন আইনি জটিলতা প্রার্থীর ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত আবাসিক এলাকায় বহিরাগত প্রবেশ এবং নিরাপত্তা ভঙ্গের অভিযোগ ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে।
এক ঝলকে
- মানিকতলার বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়ের বিরুদ্ধে ফুলবাগান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের।
- বিনা অনুমতিতে আবাসনে প্রবেশ এবং নিরাপত্তারক্ষীদের হেনস্থা করার গুরুতর দাবি।
- ফোনে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ তুলে প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি।
- সমস্ত অভিযোগকে রাজনৈতিক মিথ্যাচার বলে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তাপস রায়।