রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ আয়কর তল্লাশি, আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কমিশনের দ্বারস্থ দল

নির্বাচনী আবহে রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর হানা ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার ভোররাতে যখন সাধারণ মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাথে নিয়ে প্রার্থীর বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে হানা দেন আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা। টানা ১৬ ঘণ্টা ধরে চলে এই ম্যারাথন তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ। প্রার্থীর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে রেখে দীর্ঘক্ষণ তাঁকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখার এই ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা হিসেবে দেখছে শাসকদল।
কমিশনে নালিশ ও আইনি প্রশ্ন
এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি (মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট) চলাকালীন একজন প্রার্থীর ওপর কেন্দ্রীয় এজেন্সির এমন হানা সম্পূর্ণ বেআইনি। কমিশনের কাছে পাঠানো চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মনোনয়ন পেশের সময় প্রার্থীরা তাঁদের সম্পত্তির হলফনামা জমা দেওয়া সত্ত্বেও কেন এই অতি তৎপরতা দেখানো হলো? আইনি বৈধতা ছাড়াই একজন জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচনের মুখে এভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জোড়াফুল শিবির।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রেক্ষাপট
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ভোটের আগে প্রার্থীদের মনোবল ভাঙতেই কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে ইডি-র তলব এবং তারপর আয়কর দপ্তরের এই ১৬ ঘণ্টার তল্লাশিকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার ফলে নির্বাচনী লড়াইয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে, যার প্রভাব সরাসরি ব্যালট বাক্সে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এক ঝলকে
- রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে টানা ১৬ ঘণ্টা আয়কর তল্লাশি।
- আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনকে কড়া চিঠি দিল তৃণমূল কংগ্রেস।
- ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির ‘অতি তৎপরতা’ বলে দাবি।
- ভোটের মুখে প্রার্থীর ওপর এই ধরনের চাপ সৃষ্টির প্রতিবাদে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি।