“কংগ্রেস-বাম-তৃণমূল মিলে বাংলাকে কাঙাল করেছে, শেষ করেছে পরিচয়”: জলপাইগুড়িতে গর্জে উঠলেন যোগী

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেস, বামপন্থী এবং কংগ্রেসকে একযোগে কড়া আক্রমণ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি অভিযোগ করেন, একসময়ের সমৃদ্ধ বাংলা আজ পরিচিতি সংকটে ভুগছে। তার মতে, ধারাবাহিকভাবে পূর্ববর্তী সরকারগুলো এবং বর্তমান তৃণমূল সরকারের লুটপাট ও দুর্নীতির কারণেই ভারতের ‘গ্রোথ ইঞ্জিন’ হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যটি আজ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে।
নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে তৃণমূল ও বিরোধীদের তোপ
যোগীর আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সংসদে নারী সংরক্ষণ বিল পাশের ক্ষেত্রে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস, তৃণমূল এবং বামপন্থীরা একজোট হয়ে এই বিলটিতে বাধা সৃষ্টি করে দেশের ‘অর্ধেক আকাশ’ বা নারীশক্তির অধিকার হরণ করতে চেয়েছে। এই বিলটি পাসের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাকে নারীদের অপমানের শামিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য যে, এই সংশোধনীর পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিরোধিতায় পড়েছে ২৩০টি ভোট।
পরিভ্রমণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
নির্বাচনী উত্তাপে বিজেপি এখন এই নারী সংরক্ষণ বিল এবং রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক অবস্থাকে প্রধান হাতিয়ার করতে চাইছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নীতি ও বিরোধীদের নেতিবাচক অবস্থানের কারণেই বাংলা আজ উন্নয়নের দৌড়ে ‘লিডার’ থেকে ‘লুজারে’ পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তীক্ষ্ণ আক্রমণ আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এক ঝলকে
- যোগী আদিত্যনাথের দাবি অনুযায়ী কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূলের শাসনামল বাংলার পরিচয় সংকটের প্রধান কারণ।
- একসময়ের সমৃদ্ধ বাংলা আজ দুর্নীতি ও লুটের ফলে অর্থনৈতিকভাবে জরাজীর্ণ।
- সংসদে নারী সংরক্ষণ বিল পাসে বাধা দেওয়ার জন্য তৃণমূল ও কংগ্রেসকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে।
- কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচন ও আসন বিন্যাস সংক্রান্ত বিলগুলো বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।