আদালতে আইনজীবীদের ওপর চিৎকার, পদ হারানো বিচারপতির শেষ ভরসা এখন সুপ্রিম কোর্ট!

দিল্লির দ্বারকা আদালতের প্রাক্তন অতিরিক্ত দায়রা বিচারক (এডিজে) আমন প্রতাপ সিং নিজের পদ হারানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। দিল্লি হাইকোর্টের দেওয়া রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন তিনি। সম্প্রতি বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্টকে নোটিশ পাঠিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করেছে।
আচরণ ও পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন
আমন প্রতাপ সিং ২০২৩ সালের এপ্রিলে দিল্লি উচ্চ বিচার বিভাগীয় পরিষেবায় (ডিএইচজেএস) নিযুক্ত হন এবং দুই বছরের জন্য ‘প্রোবেশন’ বা শিক্ষানবিশ পিরিয়ডে ছিলেন। হাইকোর্টের মতে, এটি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং দায়িত্ব পালনে তাঁর অনুপযুক্ততার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ জমা পড়েছিল এবং প্রশাসনিক রেকর্ডে তাঁর কর্মক্ষমতাকে গড়ের চেয়েও কম বলে উল্লেখ করা হয়।
ভিডিও ভাইরাল ও বহিষ্কারের কারণ
বিচারক পদ থেকে তাঁকে অপসারণের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল একটি ভাইরাল ভিডিও। ওই ভিডিওতে তাঁকে এজলাসের ভেতরেই আইনজীবীদের ওপর চিৎকার করতে দেখা যায়। আদালত জানিয়েছে, একজন বিচারকের যে ধরনের আচরণ ও গাম্ভীর্য থাকা প্রয়োজন, আমন প্রতাপের ক্ষেত্রে তার অভাব ছিল। সামগ্রিক আচরণ ও পেশাদারিত্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতেই হাইকোর্ট গত ৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল।
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের ফলে এখন দেখার বিষয় যে, এই প্রাক্তন বিচারক তাঁর পদ ফিরে পান কি না। তবে এই ঘটনা বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং বিচারকদের পেশাদার আচরণের ওপর কড়া নজরদারির বিষয়টিকেই পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
এক ঝলকে
- দিল্লি হাইকোর্টের বরখাস্তের আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন প্রাক্তন বিচারক আমন প্রতাপ সিং।
- ভরা এজলাসে আইনজীবীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
- আদালত জানিয়েছে, এই অপসারণ শাস্তিমূলক নয় বরং শিক্ষানবিশকালে তাঁর সামগ্রিক অনুপযুক্ততার কারণে নেওয়া হয়েছে।
- সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টের কাছে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব চেয়েছে।