“নারীবিরোধী শক্তির পর্দাফাঁস!” কালো ব্যাজ পরে সরব মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা

সদ্য সমাপ্ত লোকসভা অধিবেশনে ১৩১তম সংবিধান সংশোধন বিল তথা নারীশক্তি সংশোধন বিলটি পাস হতে না পারায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার তিনি কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (সিএআইটি) আয়োজিত মহিলা উদ্যমী শিখর সম্মেলনে হাতে কালো ব্যাজ পরে উপস্থিত হন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিলটি আটকে দিয়ে বিরোধী দলগুলো নারীদের অধিকার হরণ করেছে এবং এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অত্যন্ত দুঃখজনক অধ্যায়।
বিরোধীদের বিরুদ্ধে নারী-বিরোধী অবস্থানের অভিযোগ
অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় রেখা গুপ্তা অভিযোগ করেন যে, বিরোধীরা দেশের ৭০ কোটি নারীর বদলে কেবল নিজেদের পরিবারের মহিলাদের নিয়ে চিন্তিত। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণেই মহিলারা আজ সংসদে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হলেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালের তুলনায় দেশের জনসংখ্যা কয়েক গুণ বাড়লেও সংসদের আসন সংখ্যা সেই অনুপাতে বাড়ানো এবং তাতে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিরোধীরা সবসময় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ প্রতিক্রিয়া
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এটি কেবল কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার মর্যাদা ও সংবেদনশীলতার প্রশ্ন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, আগামী দিনে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় মহিলারা বিরোধীদের এই ‘নারী-বিরোধী’ ভূমিকার জবাব দেবেন। এই বিলটি পাস না হওয়ার ফলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মহিলাদের অংশগ্রহণ আরও দীর্ঘায়িত হলো, যা নারী ক্ষমতায়নের পথে বড় অন্তরায় হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- লোকসভায় ১৩১তম সংবিধান সংশোধন বিল পাস না হওয়ার প্রতিবাদে কালো ব্যাজ পরে বিক্ষোভে শামিল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী।
- নারীশক্তি সংশোধন বিল আটকে দেওয়ার জন্য বিরোধীদের রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ও পরিবারতন্ত্রকে দায়ী করা হয়েছে।
- মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, উন্নত দেশগুলোর তুলনায় ভারতের সংসদে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে বারবার বাধা দিচ্ছে বিরোধী দলগুলো।
- সাধারণ নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতায় অংশীদার হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করায় দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।