মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে রণংদেহি বিজেপি: বিরোধীদের ‘নারী-বিরোধী’ তকমা দিতে মোদীর মাস্টারপ্ল্যান!

নারী সংরক্ষণ সংশোধনী বিল লোকসভায় পাস না হওয়ায় দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। এই ইস্যুতে বিরোধী জোট ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বড়সড় আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে বিজেপি। দিল্লিতে সাংসদ হেমা মালিনীসহ একাধিক মহিলা নেত্রী ও মন্ত্রীরা রাজপথে বিক্ষোভে নেমেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাফ জানিয়েছেন, এই বিলের বিরোধিতা করে বিরোধীরা বড় ভুল করেছে এবং এর রাজনৈতিক মাশুল তাদের গুনতেই হবে।
গ্রামাঞ্চলে জনমত গড়ার নির্দেশ
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা তৃণমূল স্তরে, বিশেষ করে গ্রামগঞ্জে গিয়ে বিরোধীদের ‘নারী বিরোধী’ মানসিকতাকে জনগণের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার বিষয়ে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল, কিন্তু বিরোধীদের অসহযোগিতায় তা থমকে গেছে। এখন সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চায় শাসক দল।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারের কৌশল
মাঠপর্যায়ের আন্দোলনের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াকেও বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সংবিধান সংশোধনী বিলটি লোকসভায় আটকে যায়। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, বিরোধীরা এখন নিজেদের অবস্থান ঢাকতে নানা অজুহাত দিচ্ছে, তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাদের আসল চেহারা উন্মোচন করা জরুরি। নারী অধিকার আদায়ের লড়াইকে বিজেপি এখন আসন্ন নির্বাচনের প্রধান হাতিয়ার করতে চলেছে।
এক ঝলকে
- লোকসভায় প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে নারী সংরক্ষণ সংশোধনী বিলটি বাতিল হয়ে গেছে।
- বিরোধীদের ‘নারী বিরোধী’ তকমা দিয়ে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বিজেপি।
- ২০২৯ সালের মধ্যে নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার বিষয়ে সরকারি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
- কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের নিজ নিজ সোশ্যাল মিডিয়া ও গ্রামগঞ্জে গিয়ে প্রচার চালানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।