তীব্র গরমে কি বাড়ছে স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

গ্রীষ্মের প্রখর তাপদাহ শুধু অস্বস্তিই নয়, বরং ত্বকের জন্য বয়ে আনতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসকদের মতে, স্কিন ক্যান্সার বা ত্বকের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV)। এই রশ্মি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে কোষের ডিএনএ-র ক্ষতি করে, যার ফলে কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা, বারবার সানবার্ন হওয়া এবং সুরক্ষা ছাড়াই বাইরে বেরোনোর ফলে এই মরণব্যাধির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
কেন বাড়ছে ক্যান্সারের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালে সূর্যের রশ্মি সরাসরি এবং অত্যন্ত তীব্রভাবে ভূপৃষ্ঠে পড়ে, যা অতিবেগুনি বিকিরণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে দুপুরের কড়া রোদ ত্বকের কোষগুলোর অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘ সময় এই সংস্পর্শে থাকলে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে, যা কালক্রমে ক্যান্সারের রূপ নেয়। যাঁদের গায়ের রং ফর্সা বা যাঁদের পেশাগত কারণে দিনের অনেকটা সময় রোদে কাটাতে হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে এই বিপদ আরও বেশি।
উপসর্গ ও প্রতিরোধের উপায়
ত্বকের কোনো নতুন তিল বা দাগ হওয়া, পুরনো তিলের আকার ও রঙের পরিবর্তন কিংবা কোনো ক্ষত দীর্ঘদিন না সারা স্কিন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া ত্বকে চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এই ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, লম্বা হাতার পোশাক পরা এবং চওড়া টুপি বা ছাতা ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং ত্বকে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এক ঝলকে
- সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটিয়ে ক্যান্সার সৃষ্টি করে।
- গ্রীষ্মে বিকিরণের মাত্রা তীব্র হওয়ায় এই ঋতুতে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
- তিলের রঙের পরিবর্তন বা না সারা ক্ষত এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে।
- সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলাই হলো প্রতিরোধের প্রধান উপায়।