পুরুষের স্তন ক্যানসার নিয়ে অবহেলা নয়, সতর্ক না হলে বাড়তে পারে প্রাণসংশয়

পুরুষের স্তন ক্যানসার নিয়ে অবহেলা নয়, সতর্ক না হলে বাড়তে পারে প্রাণসংশয়

স্তন ক্যানসার মানেই কেবল নারীদের অসুখ, এমন ধারণা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। পরিসংখ্যান বলছে, সচেতনতার অভাবে পুরুষদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ এবং মৃত্যুঝুঁকি দুই-ই বাড়ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সামাজিক লজ্জা এবং অজ্ঞতার কারণে পুরুষেরা স্তনের কোনো পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিতে চান না। চিকিৎসকদের মতে, এই অবহেলাই শেষ পর্যন্ত মারণব্যাধিকে স্টেজ-৩ বা স্টেজ-৪ পর্যায়ে নিয়ে যায়, যখন চিকিৎসা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

শনাক্তকরণে প্রধান বাধা ও ঝুঁকি পুরুষের স্তন ক্যানসার শনাক্ত হতে দেরি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো শরীরের গঠন সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাব। অনেক পুরুষই জানেন না যে তাদের স্তন টিস্যুতে টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে যাদের বয়স, যাদের পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস আছে কিংবা যারা অতিরিক্ত স্থূলতায় ভুগছেন, তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি। এছাড়া যকৃতের রোগ বা জিনগত মিউটেশনের কারণেও এই রোগ বাসা বাঁধতে পারে। সময়মতো পরীক্ষা না করানোই এখানে বিপদের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

লক্ষণ চিনুন ও দ্রুত ব্যবস্থা নিন পুরুষদের স্তন টিস্যু কম থাকায় ক্যানসার খুব দ্রুত সংলগ্ন পেশিতে ছড়িয়ে পড়ে। যদি স্তনে কোনো শক্ত ব্যথাহীন চাকা বা পিণ্ড অনুভূত হয়, স্তনবৃন্ত ভিতরের দিকে ঢুকে যায় কিংবা সেখান থেকে কোনো অস্বাভাবিক তরল নির্গত হয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া স্তনের ত্বকে লালচে ভাব বা কুঁচকানো পরিবর্তনও ক্যানসারের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে ম্যামোগ্রাফি বা বায়োপসির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা গেলে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

এক ঝলকে

  • স্তন ক্যানসার কেবল নারীদের নয়, পুরুষদের ক্ষেত্রেও প্রাণঘাতী হতে পারে।
  • সামাজিক লজ্জা ও সচেতনতার অভাবে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে।
  • ব্যথাহীন শক্ত চাকা, স্তনবৃন্তের পরিবর্তন বা তরল নিঃসরণ এই রোগের প্রধান লক্ষণ।
  • দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসায় এই মারণব্যাধি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *