অকারণে কাঁদছে সন্তান! শান্ত করার আগে মায়েরা মিলিয়ে নিন এই ৫টি জরুরি সংকেত

একটি নবজাতক বা ছোট শিশুর ভাব প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম হলো তার কান্না। খিদে পাওয়া, ঘুম আসা বা শরীরের কোনো অস্বস্তির কথা সে কান্নার মাধ্যমেই জানান দেয়। তবে অনেক সময় দেখা যায়, পর্যাপ্ত আহার এবং ঘুমের পরেও শিশু একটানা কেঁদে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা সাধারণত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। চিকিৎসকদের মতে, শিশুর এই কান্নার পেছনে বেশ কিছু সুপ্ত শারীরিক অস্বস্তি বা সংকেত থাকতে পারে, যা সময়মতো বোঝা অত্যন্ত জরুরি।
অস্বস্তির লুকানো কারণসমূহ
শিশুর কান্নার অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে পেটে গ্যাসের ব্যথা বা কোলিক। যদি শিশু পা গুটিয়ে পেটের দিকে নিয়ে আসে এবং তীব্র স্বরে কাঁদে, তবে বুঝতে হবে তার হজমে সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া পোশাকের অতিরিক্ত টাইট হওয়া, ডায়াপার ভিজে যাওয়া কিংবা ঘরের তাপমাত্রার তারতম্যের কারণেও শিশু বিরক্ত হয়ে কাঁদতে পারে। অনেক সময় কানের ব্যথা বা শরীরে কোনো পোকার কামড় থেকেও শিশু দীর্ঘক্ষণ কান্নাকাটি করে, যা সাধারণ দৃষ্টিতে ধরা পড়ে না।
সতর্কতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
কান্নার কারণ শনাক্ত করতে দেরি হলে শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে। সঠিক সময়ে অস্বস্তি দূর না হলে শিশুর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং তার মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে যদি কান্নার সাথে সাথে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় বা বমি ভাব দেখা দেয়, তবে তা কোনো ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে। তাই শিশুকে শান্ত করার আগে কান্নার ধরন পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এক ঝলকে
- শিশুর কান্না কেবল খিদে নয়, বরং শারীরিক কোনো জটিলতার সংকেত হতে পারে।
- পেটে গ্যাসের সমস্যা বা কোলিকের কারণে শিশু টানা এবং উচ্চস্বরে কাঁদে।
- পোশাকের অস্বস্তি বা ডায়াপার ভেজা থাকলে শিশু বারবার বিরক্ত হয়ে কান্নাকাটি করে।
- কান্নার সাথে জ্বর বা বমি থাকলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।