বিয়ের দিন ফাঁস হলো গোপন তথ্য, অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযুক্ত বর, পুলিশ আসতেই থামল বিয়ে

মধ্যপ্রদেশের রতলামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল এলাকাবাসী। যখন বিয়ের সানাই বাজছিল এবং বর অভিষেক সেন ঘোড়ায় চেপে বিয়ের পিঁড়িতে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই পুলিশের একটি ফোন বদলে দেয় সব সমীকরণ। উজ্জয়িনীর এক ১৫ বছর বয়সী নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে বরের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনে মামলা হওয়ার পর মাঝপথেই থমকে যায় বর্ণাঢ্য এই বিবাহ অনুষ্ঠান।
গোপন তথ্য ফাঁস ও আত্মহত্যার চেষ্টা
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত অভিষেক সেন তার প্রতিবেশী এক নাবালিকাকে গত ৫ জানুয়ারি ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ঘটনার পর থেকেই নাবালিকা প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিল। সম্প্রতি যখন সে জানতে পারে যে অভিষেক অন্য এক তরুণীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছে, তখন সে চরম হতাশায় অ্যাসিড পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। হাসপাতালে চিকিৎসার সময় চিকিৎসকরা জানতে পারেন যে ওই নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা। এরপরই পরিবারের কাছে সে সমস্ত নির্যাতনের কথা খুলে বলে।
পুলিশি তৎপরতা ও সামাজিক প্রভাব
নাবালিকার জবানবন্দির ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং রতলামে কনের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করে। বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয় এবং উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে বাতিল করা হয়। অভিযুক্ত অভিষেক পুলিশের খবর পেয়ে মণ্ডপে পৌঁছানোর আগেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছে। এই ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।
পুলিশের মতে, এ ধরনের ঘটনায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন সাহস না দেখায়। বর্তমানে পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কনের পরিবার এই কলঙ্কিত সম্পর্ক থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এক ঝলকে
- নাবালিকা প্রতিবেশী কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত বরের বিয়ে বাতিল হলো রতলামে।
- ধর্ষণের শিকার ওই নাবালিকা বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা এবং সে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল।
- অভিযুক্ত অভিষেক সেনের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
- পুলিশের আসার খবর পেয়ে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার আগেই পালিয়ে গেছে মূল অভিযুক্ত।