“হোরমুজ বন্ধ, ফিরে যাও!” মাঝ সমুদ্রে ভারতীয় জাহাজে ইরানের হুঁশিয়ারি, তুঙ্গে উত্তেজনা

“হোরমুজ বন্ধ, ফিরে যাও!” মাঝ সমুদ্রে ভারতীয় জাহাজে ইরানের হুঁশিয়ারি, তুঙ্গে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হোরমুজ প্রণালীতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি এই এলাকায় ‘জগ অর্ণব’ এবং ‘সানমার হ্যারাল্ড’ নামক দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী তেলের ট্যাঙ্কারে ইরানি নৌবাহিনী গুলিবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইরাকি অপরিশোধিত তেল বহনকারী জাহাজ দুটিকে অবিলম্বে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে ইরানি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একটি ভাইরাল অডিও রেকর্ডিংয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের বলতে শোনা যায়, “হোরমুজ প্রণালী বন্ধ, দ্রুত বন্দরে ফিরে যান।”

কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও ভারতের প্রতিক্রিয়া
সমুদ্রে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। দিল্লিতে দায়িত্বরত ইরানি রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ ফাতহালিকে তলব করে ভারত সরকার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মার্চেন্ট শিপিং এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়াদিল্লির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যদিও ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ড. আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহী এই হামলার বিষয়টি সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, ভারত ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়।

সংকটের কারণ ও প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সামরিক বাহিনীর (IRGC) কৌশলগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকতে পারে। আমেরিকা কর্তৃক অর্থনৈতিক অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। হোরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এক ঝলকে

  • ওমান সাগরের উত্তরে ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি তেলের ট্যাঙ্কারে ইরানি নৌবাহিনীর গুলিবর্ষণ।
  • ‘হোরমুজ প্রণালী বন্ধ’ উল্লেখ করে ভারতীয় ক্যাপ্টেনদের জাহাজ ফিরিয়ে নেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি।
  • ঘটনার প্রতিবাদে দিল্লিতে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
  • এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *