আমেরিকার সামান্য ভুলেই কি শুরু হবে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ! চরম হুঁশিয়ারি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরমে। রবিবার ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ এক টেলিভিশন ভাষণে ওয়াশিংটনকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকা যদি সামান্যতম ভুল পদক্ষেপও করে, তবে ইরান পূর্ণ শক্তি দিয়ে তার জবাব দেবে। বর্তমানে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখলেও তেহরান যে সামরিক দিক থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, তা এই বার্তায় স্পষ্ট।
কৌশলী অবস্থানে তেহরান
গালিবাফ স্বীকার করেছেন যে সামরিক সম্পদ বা অর্থের দিক থেকে আমেরিকা শক্তিশালী হলেও, ইরান তাদের উন্নত রণকৌশল দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে রণক্ষেত্রে ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। শত্রুপক্ষ ইরানের জনবল এবং সামরিক কৌশল বুঝতে বারবার ভুল করছে বলেই তিনি মনে করেন। এই মুহূর্তে শক্ত অবস্থানে থেকেই ইরান আলোচনায় বসতে চায় বলে তাঁর ভাষণে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আসাম লড়াই ও সম্ভাব্য প্রভাব
ইরানের পক্ষ থেকে এই সংঘাতকে ‘আসাম যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। স্পিকারের মতে, আগের তুলনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে, যার প্রমাণ যুদ্ধক্ষেত্রে পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই বাকযুদ্ধ এবং সামরিক রেষারেষি যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রবল, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
এক ঝলকে
- আমেরিকার সামান্য ভুলেই পূর্ণ শক্তিতে প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিল ইরান।
- সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকলেও উন্নত রণকৌশলে ইরান এগিয়ে বলে দাবি স্পিকারের।
- কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক দিক থেকেও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে তেহরান।
- এই উত্তেজনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়ছে।