শূন্য পকেট আর অদম্য জেদ নিয়ে ভোটের ময়দানে বেকার সুকান্ত!

কলেজ জীবন থেকেই সুকান্ত কিস্কুর দুচোখে স্বপ্ন ছিল জনপ্রতিনিধি হয়ে সাধারণ মানুষের সেবা করার। ৩২ বছর বয়সি এই যুবক পাঁচ বছর আগে পড়াশোনা শেষ করলেও এখনও কর্মহীন। তবে বেকারত্বের অভিশাপ তাঁকে দমাতে পারেনি। দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন বিধানসভা কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে এবারের নির্বাচনে চমক দিয়েছেন তিনি। কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে ভূগোলে স্নাতক ও ডিএলএড উত্তীর্ণ এই মেধাবী যুবক এখন পরিবর্তনের নেশায় বুঁদ হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।
আমানত ও আদর্শের লড়াই
সুকান্ত প্রথমে ‘বহুজন মুক্তি পার্টি’র টিকিটে লড়তে চাইলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সইয়ের গরমিলের কারণে তাঁর আবেদন বাতিল হয়। কিন্তু হাল না ছেড়ে নিজের জমানো মাত্র ১৫ হাজার টাকা সম্বল করেই তিনি ভোটের ময়দানে নেমে পড়েন। বাবা মঙ্গল কিস্কু একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক। তাঁর পেনশনের টাকায় সংসার চললেও ছেলের এই আসাম লড়াইয়ে তিনি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। আদিবাসী অধ্যুষিত তপন এলাকায় উন্নয়নের খরা ঘোচাতে সুকান্তকে তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ‘খাটিয়া’ নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে।
রাজনীতিতে নতুন অভিজ্ঞতার লক্ষ্য
সুকান্তর মতে, কোনও বড় রাজনৈতিক দলে যোগ দিলে দ্রুত নেতৃত্ব দেওয়া বা নির্বাচনে দাঁড়ানো সম্ভব হয় না। তিনি ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতি করতে চান, তাই শুরুতেই এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছেন। তপন এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়ন ও অধিকার আদায়ের দাবিকেই তিনি প্রধান হাতিয়ার করেছেন। একজন উচ্চশিক্ষিত বেকার যুবকের এমন সাহসী পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা সাধারণ ভোটারদের একাংশকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন ৩২ বছর বয়সি বেকার যুবক সুকান্ত কিস্কু।
- নিজের জমানো মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ‘খাটিয়া’ প্রতীক নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন এই ভূগোলে স্নাতক যুবক।
- দলের আবেদন বাতিল হওয়ার পর দমে না গিয়ে আদিবাসী সমাজের অধিকার ও উন্নয়নের দাবিতে তিনি অনড়।
- ছেলের এই জেদ ও মানুষের সেবা করার ইচ্ছাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তাঁর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবা।