প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করা মায়ের শরীর থেকে টেনে বের করা হলো শিশুর দেহ, কাটা মাথা রয়ে গেল গর্ভে!

প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করা মায়ের শরীর থেকে টেনে বের করা হলো শিশুর দেহ, কাটা মাথা রয়ে গেল গর্ভে!

উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলায় স্বাস্থ্য পরিষেবার এক চরম অমানবিক ও গা শিউরে ওঠা ছবি প্রকাশ্যে এল। কুদরহা এলাকার একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে (সিএইচসি) প্রসব বেদনায় কাতর এক মহিলার সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে চরম অসংবেদনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। নবজাতকের পা আগে বেরিয়ে আসায় স্বাভাবিক প্রসবের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই নার্স জোরপূর্বক টেনে শিশুটিকে বের করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, সেই প্রবল হ্যাঁচকা টানে শরীর থেকে মাথা আলাদা হয়ে নবজাতকের ধড় বাইরে বেরিয়ে আসে এবং মাথাটি গর্ভের ভেতরেই আটকে যায়।

চিকিৎসায় গাফিলতি ও চরম ঝুঁকি

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর নিজেদের দায় এড়াতে তড়িঘড়ি আক্রান্ত মহিলাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় সিএইচসি কর্তৃপক্ষ। সেখানেও যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অবশেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বস্তি মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। টানা দুই ঘণ্টার এক জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গর্ভ থেকে নবজাতকের কাটা মাথাটি বের করে আনা সম্ভব হয়। চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বর্তমানে মহিলার প্রাণ রক্ষা পেলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

বিশেষজ্ঞের মতামত ও অব্যবস্থাপনার জের

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, প্রসবের সময় শিশুর পা আগে আসার ঘটনাকে ‘ব্রিচ ডেলিভারি’ বলা হয়, যা অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। এমন ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বা সি-সেকশন বাধ্যতামূলক হলেও অদক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে স্বাভাবিক প্রসব করানোর চেষ্টাই এই মর্মান্তিক পরিণতির মূল কারণ। এই ঘটনায় গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কালসার দশা এবং দায়িত্বরত কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিলেও দোষী নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে শোকাতুর পরিবার।

এক ঝলকে

  • উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলায় প্রসবের সময় নার্সের অবহেলায় নবজাতকের ধড় ও মাথা আলাদা হয়ে যাওয়ার ঘটনা।
  • জোর করে টেনে বের করার ফলে শিশুর দেহ বাইরে এলেও মাথা মায়ের গর্ভেই আটকে ছিল।
  • মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের দীর্ঘ দুই ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারে প্রসূতির প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।
  • দোষী স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ এনে কঠোর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *