সারাদিন কি ক্লান্তি আর দুর্বলতা পিছু ছাড়ছে না? শরীরে লুকানো ভিটামিনের ঘাটতি হতে পারে আসল কারণ

সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক, তবে বর্তমানে অনেক মানুষ সামান্য পরিশ্রমেই চরম অবসাদ অনুভব করেন। ঘুম পূর্ণ হওয়ার পরেও যদি সকালে ওঠার পর শরীরে সতেজতা না থাকে বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় শ্বাসকষ্ট হয়, তবে তা সাধারণ অলসতা নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে পুষ্টির অভাব, বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের ঘাটতি এই দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির প্রধান কারণ হতে পারে। লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ড. এল এইচ ঘোতেকার এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
কেন বাড়ছে শরীরের এই অবসাদ
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সচল রাখতে ভিটামিন B12 অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এই ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দিলে কোষগুলোতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না, যার ফলে সামান্য কাজ করলেই পেশিতে ব্যথা, মাথা ঘোরা এবং মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। দীর্ঘকাল এই সমস্যা অবহেলা করলে এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে।
প্রতিরোধের উপায় ও পুষ্টিকর ডায়েট
ক্লান্তি কাটিয়ে শরীরকে চনমনে করতে ডায়েটে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে দুধ, দই, পনির, ডিম ও মাছের মতো খাবার ভিটামিন B12-এর অন্যতম উৎস। যারা নিরামিষাশী, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফোর্টিফাইড ফুডস বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন। তবে শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, স্ক্রিন টাইম কমিয়ে পর্যাপ্ত ঘুম এবং হালকা যোগব্যায়াম করলে মানসিক ও শারীরিক অবসাদ দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। সঠিক পুষ্টি ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা শরীরে এনার্জির মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এক ঝলকে
- দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও দুর্বলতার অন্যতম প্রধান কারণ ভিটামিন B12-এর অভাব।
- রেড ব্লাড সেল তৈরিতে এবং অক্সিজেন সরবরাহে এই ভিটামিন বিশেষ ভূমিকা রাখে।
- দুধ, ডিম, পনির ও সামুদ্রিক মাছের মতো খাবার শরীরে শক্তির জোগান বাড়াতে সহায়ক।
- ক্লান্তির লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।