‘থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন, নয়তো…’— বাঁকুড়ার মাটি থেকে সিন্ডিকেটরাজ খতমের ডাক প্রধানমন্ত্রীর

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নামার শুরুতেই বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা থেকে শুরু করে রাজ্যে চলা ‘সিন্ডিকেটরাজ’—প্রতিটি ইস্যুতে সুর চড়িয়ে কার্যত শাসক দলের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূল নেতৃত্বের বর্তমান আচরণ ও ‘গুন্ডামির ভাষা’ আসলে পরাজয়ের ভয়ের বহিঃপ্রকাশ এবং এটিই ৪ মে-র ফলাফলের প্রকৃত পূর্বাভাস।
দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
জনসভা থেকে দুর্নীতি ও মাফিয়া রাজের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল নেতাদের আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর কাউকেই রেয়াত করা হবে না। বিজেপির সরকার এলে কয়লা পাচারকারী ও সিন্ডিকেট চক্রের স্থায়ী চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রে ও রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার গঠিত হলে তবেই বাংলার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে।
নারী ক্ষমতায়নে বাধা ও পরিবর্তনের ডাক
মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হতে না পারার দায় সরাসরি তৃণমূলের ওপর চাপিয়ে মোদী অভিযোগ করেন, বাংলার মহিলারা যাতে বেশি সংখ্যায় আইনসভায় প্রতিনিধিত্ব করতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলার মানুষ এখন তৃণমূলের ‘জঙ্গলরাজ’ থেকে মুক্তি চায়। সভায় উপস্থিত মানুষের বিপুল ভিড় ও উদ্দীপনাকে পরিবর্তনের নিশ্চিত সংকেত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জনতাকে ‘বাংলার আসল বাঘ’ বলে অভিহিত করেন।
এই হাইভোল্টেজ সভা থেকে মোদীর দেওয়া হুঁশিয়ারি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সিন্ডিকেট রাজ বন্ধের প্রতিশ্রুতি এবং নারী শক্তির আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের মনে আস্থা ফেরানোই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।
এক ঝলকে
- বিষ্ণুপুরের সভা থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগে সরব প্রধানমন্ত্রী।
- ২৯ এপ্রিলের আগে অভিযুক্তদের থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণের কড়া বার্তা।
- মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিরোধিতার জন্য তৃণমূল ও কংগ্রেসের আঁতাঁতকে দায়ী করা।
- ৪ মে নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত।