১১৪ বছর পর নিলামে টাইটানিক ম্যাজিক! কোটি কোটি টাকায় বিক্রি হলো প্রাণের রক্ষা কবজ

১১৪ বছর পর নিলামে টাইটানিক ম্যাজিক! কোটি কোটি টাকায় বিক্রি হলো প্রাণের রক্ষা কবজ

বিলাসবহুল জাহাজ টাইটানিক ডুবে যাওয়ার ১১৪ বছর পর ফের খবরের শিরোনামে উঠে এলো ধ্বংসাবশেষ থেকে রক্ষা পাওয়া এক ঐতিহাসিক স্মারক। ১৯১২ সালের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া প্রথম শ্রেণির যাত্রী লরা মেবেল ফ্রানকাতেলির ব্যবহৃত একটি লাইফ জ্যাকেট সম্প্রতি ইংল্যান্ডের এক নিলামে প্রায় ৮.৩৯ কোটি টাকায় (৬ লক্ষ ৭০ হাজার পাউন্ড) বিক্রি হয়েছে। হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন নামক নিলামকারী সংস্থার আয়োজিত এই ইভেন্টে জ্যাকেটটি ঘিরে সংগ্রাহকদের মধ্যে চরম উন্মাদনা দেখা দেয়।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্বাক্ষরের মহিমা

এই লাইফ জ্যাকেটটি কেবল একটি জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম নয়, বরং ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। এতে লরা ফ্রানকাতেলি এবং তাঁর সাথে একই লাইফবোটে প্রাণে বেঁচে ফেরা আরও বেশ কয়েকজন যাত্রীর স্বাক্ষর রয়েছে। এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই নিলামে এর প্রাথমিক দাম আড়াই থেকে সাড়ে তিন লক্ষ পাউন্ড অনুমান করা হলেও, শেষ পর্যন্ত এক অজ্ঞাতপরিচয় ক্রেতা অভাবনীয় মূল্যে এটি কিনে নেন। একই নিলামে জাহাজের লাইফবোটের একটি কুশনও প্রায় ৩ লক্ষ ৯০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে।

অতীতের স্মৃতি ও বিতর্কের ছোঁয়া

টাইটানিক দুর্ঘটনার সময় লরা ফ্রানকাতেলি খ্যাতনামা ফ্যাশন ডিজাইনার লুসি ডাফ গর্ডন ও তাঁর স্বামীর সঙ্গে ‘লাইফবোট নম্বর ১’-এ চড়ে আত্মরক্ষা করেছিলেন। উল্লেখ্য, ৪০ জনের ধারণক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও মাত্র ১২ জন যাত্রী নিয়ে সেই বোটটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই লাইফ জ্যাকেটটি সেই বিতর্কিত এবং মর্মান্তিক ইতিহাসেরই এক নীরব সাক্ষী হয়ে টিকে আছে।

জনপ্রিয়তা ও স্থায়ী প্রভাব

নিলামকারী সংস্থার মতে, টাইটানিকের স্মারক নিয়ে মানুষের এই দীর্ঘস্থায়ী আকর্ষণ প্রমাণ করে যে জাহাজটির করুণ পরিণতি আজও বিশ্ববাসীর মনে দাগ কেটে আছে। বিশালাকার হিমশৈলের ধাক্কায় দেড় হাজার মানুষের সলিল সমাধির ঘটনা শতাব্দী পেরিয়েও আধুনিক প্রজন্মের কাছে সমান রোমাঞ্চকর। এই বিপুল বিক্রয়মূল্য মূলত সেই ট্র্যাজেডির প্রতি মানুষের আবেগ এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ।

এক ঝলকে

  • টাইটানিকের লাইফ জ্যাকেটটি ইংল্যান্ডের নিলামে প্রায় ৮.৩৯ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে।
  • জ্যাকেটটিতে প্রথম শ্রেণির যাত্রী লরা ফ্রানকাতেলি ও অন্য কয়েকজনের সই রয়েছে।
  • ১৯১২ সালে টাইটানিক ডুবে যাওয়ার সময় এই জ্যাকেটটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
  • এটি ছাড়াও টাইটানিকের লাইফবোটের একটি কুশন ৩ লক্ষ ৯০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *