ব্যাগের ভেতর খাবার ভরা নিয়ে রণক্ষেত্র বিয়ের আসর, বরের বাবার ওপর হামলায় চলল তুমুল মারপিট

ব্যাগের ভেতর খাবার ভরা নিয়ে রণক্ষেত্র বিয়ের আসর, বরের বাবার ওপর হামলায় চলল তুমুল মারপিট

উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক বিয়ের আসরে খাবারের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনন্দঘন অনুষ্ঠান মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। কানপুরের বিলহোর এলাকায় গত শনিবার রাতে দুই বোনের যৌথ নিকাহর আয়োজন করা হয়েছিল। বরযাত্রী ও কনেপক্ষের মধ্যে শুরু হওয়া সামান্য বচসা একপর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়, যা পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

খাবার চুরিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত
ঘটনার মূলে ছিল খাবার লুকিয়ে ব্যাগে ভরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোট মেয়ের বিয়ের পক্ষের কিছু বরযাত্রী খাবার খাওয়ার পাশাপাশি তা গোপনে ব্যাগে ভরতে শুরু করেন। কনেপক্ষ এর প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ঝগড়া হাতাহাতিতে গড়ায় এবং বিয়েবাড়ি যেন এক কুস্তির ময়দানে পরিণত হয়।

বরের বাবার ওপর হামলা ও পুলিশের হস্তক্ষেপ
মারপিটের একপর্যায়ে বরের বাবাকে সজোরে মাটিতে আছাড় মারা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বাবাকে আহত হতে দেখে বরের পক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক লাথি ও ঘুসোঘুষি চলে। খবর পেয়ে বিলহোর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শুরুতে বিবাদের জেরে ‘তিন তালাক’-এর গুঞ্জন ছড়ালেও পুলিশ ও কনের পরিবার তা ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে দুই বোনের নিকাহ সম্পন্ন হয়।

পরবর্তী অনুষ্ঠানের দিন হামলার আতঙ্ক
বিয়ে সম্পন্ন হলেও কনের পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। কনের বাবার অভিযোগ, বিবাদে লিপ্ত বরযাত্রীরা তাঁকে হুমকি দিয়েছে যে পরবর্তী অনুষ্ঠানের দিন অর্থাৎ ‘চতুর্থী’র সময় তাঁকে দেখে নেওয়া হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক ঝলকে

  • ব্যাগে খাবার ভরা নিয়ে প্রতিবাদ করায় কানপুরের বিলহোরে বরযাত্রী ও কনেপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
  • বরের বাবাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বিয়ের আসর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
  • পুলিশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হলে শেষ পর্যন্ত দুই বোনের নিকাহ সম্পন্ন হয়।
  • হামলার হুমকি দেওয়ায় বর্তমানে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কনের বাবা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *