আড়াই বছরেই তিন সন্তান! লাখপতি হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে এই দেশ, জানুন অবিশ্বাস্য এই স্কিম সম্পর্কে

বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর হংকং বর্তমানে এক নজিরবিহীন জনতাত্ত্বিক সংকটের মুখোমুখি। জন্মহার আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হংকং প্রশাসন ‘বেবি বোনাস’ নামক একটি বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তান জন্ম দিলে দম্পতিদের বড় অংকের আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি জানা গেছে, হংকংয়ের অন্তত ২০টি দম্পতি মাত্র আড়াই বছরের ব্যবধানে তিনটি করে সন্তান জন্ম দিয়ে প্রত্যেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা (৭,৭০০ মার্কিন ডলার) সমমূল্যের বোনাস জিতে নিয়েছেন।
কী এই বেবি বোনাস প্রকল্প
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হংকং সরকার এই জনসংখ্যা বৃদ্ধি পরিকল্পনা শুরু করে। তিন বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের জন্য ২.২৮ বিলিয়ন হংকং ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- প্রত্যেক নবজাতকের জন্য যোগ্য বাবা-মাকে ২০,০০০ হংকং ডলার বোনাস দেওয়া হয়।
- শর্ত অনুযায়ী, শিশুটিকে অবশ্যই হংকংয়ে জন্মগ্রহণ করতে হবে।
- বাবা অথবা মায়ের মধ্যে অন্তত একজনকে হংকংয়ের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬৬,২৫৯ জন শিশু এই বোনাসের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র ছয় মাস বাকি থাকলেও বরাদ্দের মাত্র ৬০ শতাংশ অর্থ এখন পর্যন্ত বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে।
২০টি দম্পতির বিশেষ রেকর্ড
হংকং সরকারের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রকল্প শুরুর পর থেকে ২০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিনবার করে বোনাসের অর্থ জমা হয়েছে। এর অর্থ হলো, এই ২০টি দম্পতি মাত্র দুই বছর চার মাস বা ২৮ মাসের ব্যবধানে তিনটি করে সন্তান গ্রহণ করেছেন। হংকংয়ের বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে যা একটি বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জন্মহার হ্রাসের নেতিবাচক প্রভাব ও বাস্তবতা
ভীষণ চেষ্টার পরেও হংকংয়ের জন্মহার প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ছে না। ২০২৪ সালের শুরুতে কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন যে, এই প্রকল্পের ফলে জন্মহার ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং বছরে প্রায় ৩৯,০০০ শিশুর জন্ম হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ২০২৫ সালে হংকংয়ে মাত্র ৩১,১০০ শিশুর জন্ম হয়েছে, যা আগের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমনকি ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে জন্মহার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আরও ২০ শতাংশ কমেছে।
কেন পিছিয়ে থাকছে তরুণ প্রজন্ম
বিশেষজ্ঞ এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের মতে, কেবল আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে জন্মহার বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান তরুণ সমাজ মনে করছে, সন্তান লালন-পালন এখন আর আনন্দ বা আশার বিষয় নয়, বরং এটি অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং ব্যক্তিগত ত্যাগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং কর্মব্যস্ততার কারণে আর্থিক বোনাস পাওয়ার পরেও অনেকে সন্তান নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না।
একঝলকে
সংকট: সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে জন্মহার ২০ শতাংশ কম।
উদ্যোগ: হংকং সরকারের ‘বেবি বোনাস’ প্রকল্প।
পুরস্কার: প্রতিটি সন্তানের জন্য ২০,০০০ হংকং ডলার (প্রায় ২ লক্ষ টাকা)।
রেকর্ড: ২০টি দম্পতি আড়াই বছরে ৩টি করে সন্তান নিয়ে সর্বোচ্চ বোনাস পেয়েছেন।
বর্তমান অবস্থা: ২০২৫ সালে জন্মহার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩১,১০০-তে।