“মুসলিম ভোট চাই না, মমতা ওদের মাথায় তুলেছেন”: বিস্ফোরক বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি। এরই মধ্যে উত্তর কলকাতার মানিকতলা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়ের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এই বর্ষীয়ান নেতা এবার সরাসরি সংখ্যালঘু ভোট এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।
সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে বিতর্কিত অবস্থান
নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপের মধ্যে তাপস রায় মমতা সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন যে, একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করার পেছনে তাদের ভূমিকা ছিল, যা নিয়ে তিনি এখন অনুতপ্ত। তার বক্তব্যে উঠে আসে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের সুর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, তার মুসলিম ভোটের প্রয়োজন নেই। তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে তোষণ রাজনীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে অতিরিক্ত প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় তুলে রেখেছে। নিজেকে ‘অসাম্প্রদায়িক’ বা সেক্যুলার বলতেও তিনি নারাজ বলে দাবি করেন।
তৃণমূল ত্যাগ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
তাপস রায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন রাজনীতিবিদ। তিনি ২০০১ সাল থেকে একাধিকবার বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ২০২৪ সালের ৪ মার্চ তিনি নাটকীয়ভাবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এবারের নির্বাচনে মানিকতলা আসন থেকে গেরুয়া শিবিরের হয়ে লড়ছেন তিনি। তার এই দলবদল এবং বর্তমানের আক্রমণাত্মক অবস্থান মূলত পুরনো দলের প্রতি তার ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অভিযোগ ও আইনি জটিলতা
বিতর্কিত মন্তব্যের পাশাপাশি তাপস রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগও উঠেছে। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি আবাসন চত্বরে বিনা অনুমতিতে প্রচার চালানোর অভিযোগে ফুলবাগান থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ অনুযায়ী, রক্ষীরা তাঁকে বাধা দিতে গেলে তিনি হুমকি প্রদর্শন করেন। যদিও বিজেপি প্রার্থী এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সম্পত্তি ও ব্যক্তিগত তথ্য
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, ৬৯ বছর বয়সী তাপস রায় পেশায় একজন আইনজীবী ও ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। হলফনামা অনুসারে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা এবং দায়ের পরিমাণ প্রায় ৪৬.৯ লক্ষ টাকা।
নির্বাচনী প্রভাব ও সম্ভাবনা
পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাপস রায়ের এমন মন্তব্য ভোটারদের মেরুকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তাঁর এই ‘অনুতাপ’ এবং কঠোর অবস্থান মানিকতলা কেন্দ্রের নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একঝলকে
নির্বাচনের তারিখ: ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ; ফলাফল ৪ মে।
প্রার্থী: তাপস রায় (মানিকতলা, বিজেপি)।
মূল মন্তব্য: মুসলিম ভোটের প্রয়োজন নেই এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করায় অনুতপ্ত।
রাজনৈতিক ইতিহাস: ৪ বারের বিধায়ক এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রমন্ত্রী।
দলবদল: ৪ মার্চ ২০২৪-এ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান।
বিতর্ক: আবাসনে জোরপূর্বক প্রবেশের অভিযোগে থানায় ডায়েরি।