ট্রাম্পের দাবি কি তবে ফাঁপা? পেন্টাগনের রিপোর্টে ফাঁস ইরানের আসল সামরিক শক্তি!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন যে, সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতায় ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে পেন্টাগনের গোয়েন্দা শাখার সর্বশেষ এক গোপন প্রতিবেদনে এই দাবির বিপরীত তথ্য উঠে এসেছে। গোয়েন্দা মূল্যায়নে জানানো হয়েছে, ইরান এখনো মধ্যপ্রাচ্যের একটি ‘শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তি’ হিসেবে টিকে আছে এবং তাদের প্রধান সামরিক সক্ষমতাগুলো এখনো কার্যকর।
মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রকৃত চিত্র
এনবিসি নিউজের বরাতে জানা যায়, পেন্টাগনের গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা বলছেন যে তেহরানের সামরিক শক্তি যতটা দুর্বল বলে প্রচার করা হচ্ছে, বাস্তবে পরিস্থিতি ততটা সঙ্গিন নয়। ইরান তাদের সামরিক কাঠামোর উল্লেখযোগ্য অংশ রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত হোয়াইট হাউসের প্রচারণার সাথে সামরিক গোয়েন্দা তথ্যের এই অমিল ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি ও কূটনীতির বর্তমান অবস্থা
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে সামরিক অভিযান স্থগিত থাকলেও ইরানের ওপর নৌ অবরোধ এখনো বলবৎ রয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানি প্রতিনিধি দল যতক্ষণ পর্যন্ত একটি সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে হাজির না হচ্ছে, ততক্ষণ এই সাময়িক স্বস্তি বজায় থাকবে। মূলত অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির কথা মাথায় রেখেই যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সামরিক শক্তির চেয়ে আলোচনার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে ইরানকে এখনো শক্তিশালী সামরিক শক্তি বলছে পেন্টাগনের গোয়েন্দা শাখা।
- ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি বলে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে জানানো হয়েছে।
- পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
- যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ এখনো কার্যকর রয়েছে।