‘এটুকুই বলার আছে’; ট্রাম্পের ‘নরক’ মন্তব্যে কৌশলী নীরবতা ভারতের, তুখোড় জবাব দিল ইরান!

‘এটুকুই বলার আছে’; ট্রাম্পের ‘নরক’ মন্তব্যে কৌশলী নীরবতা ভারতের, তুখোড় জবাব দিল ইরান!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ভারত ও চীনকে ‘নরক’ হিসেবে অভিহিত করা একটি পোস্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ট্রাম্প একটি টক শোর ট্রান্সক্রিপ্ট শেয়ার করেন, যেখানে অবৈধ অভিবাসন এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সমালোচনা করতে গিয়ে দেশ দুটিকে আক্রমণাত্মক বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয়। এই ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো প্রতিবাদ না জানিয়ে অত্যন্ত সংযত ও কৌশলী অবস্থান গ্রহণ করেছে।

নয়াদিল্লির সতর্ক অবস্থান

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব না দিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ভারত সরকার এ সংক্রান্ত কিছু রিপোর্ট দেখেছে, তবে এর বাইরে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। মূলত আমেরিকার সাথে বিদ্যমান কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই ভারত এই ইস্যুতে নীরব থাকার পথ বেছে নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাল্টা আক্রমণে ইরান

ভারতের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো জবাব না এলেও মিত্র দেশ ইরান এই ইস্যুতে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। হায়দ্রাবাদে অবস্থিত ইরানের কনসুলেট জেনারেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছে, ভারত ও চীন হলো ‘সভ্যতার সূতিকাগার’। ট্রাম্পের অতীতের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের দিকে ইঙ্গিত করে ইরান বলেছে যে, আসল ‘নরক’ সেই জায়গা যার প্রেসিডেন্ট একটি প্রাচীন সভ্যতাকে ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন। আমেরিকার সাথে বর্তমান বৈরি সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ইরান এই সুযোগে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করেছে।

ট্রাম্পের শেয়ার করা ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল যে, আধুনিক যুগে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনটি আমেরিকান সমাজকে ধ্বংস করছে এবং অভিবাসীদের মধ্যে দেশটির প্রতি আনুগত্যের অভাব রয়েছে। ট্রাম্পের এমন বিতর্কিত অবস্থান সামনের দিনগুলোতে ভারত-মার্কিন কূটনৈতিক সম্পর্কে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, যদিও নয়াদিল্লি এখনই সেটিকে বড় রূপ দিতে চাইছে না।

এক ঝলকে

  • ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারত ও চীনকে ‘নরক’ (Hellhole) বলে অভিহিত করা একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন।
  • ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যের সরাসরি প্রতিবাদ না জানিয়ে একে সাধারণ কিছু সংবাদ রিপোর্ট হিসেবে গণ্য করেছে।
  • ইরান এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারত ও চীনকে মহান প্রাচীন সভ্যতা হিসেবে অভিহিত করেছে।
  • এই বিতর্কের মূলে রয়েছে ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *