‘সবাইকে ঢুকতে নাও দিতে পারি!’, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি আমেরিকার

চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ময়দানে। আয়োজক দেশ আমেরিকা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপে ইরান ফুটবল দলের অংশগ্রহণে বাধা না থাকলেও তাদের প্রতিনিধিদলের ওপর থাকবে কঠোর বিধিনিষেধ। বিশেষ করে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তিকে সাংবাদিক বা সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
প্রতিনিধিদল নিয়ে কঠোর অবস্থান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের মাঠে নামা নিয়ে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। তবে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও স্পষ্ট করেছেন যে, ফুটবলের আড়ালে সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত কাউকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সদস্যের ব্যাকগ্রাউন্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে। এর ফলে ইরান দলের কোচিং স্টাফ ও অফিশিয়ালদের আসা নিয়ে বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিকল্প প্রস্তাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় যখন আমেরিকার এক বিশেষ দূত ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে খেলানোর প্রস্তাব তোলেন। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টুর্নামেন্টের মান বাড়াতে পারে বলে যুক্তি দেওয়া হলেও, আজুরি শিবির স্বয়ং সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। ফলে ফিফার সূচি অনুযায়ী ১৬ জুন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেই ইরানের অভিযান শুরু হওয়ার কথা।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও প্রভাব
এই সিদ্ধান্ত কেবল ক্রীড়াক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি গভীর কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। আমেরিকার এই অনড় অবস্থানের পর ইরান শেষ পর্যন্ত এই শর্ত মেনে দল পাঠাবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। যদি ইরান দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে বিশ্বকাপের গ্রুপ বিন্যাস ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এক ঝলকে
- ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান দলের খেলোয়াড়দের প্রবেশে সবুজ সংকেত দিয়েছে আমেরিকা।
- রেভলিউশনারি গার্ডসের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তিকে প্রতিনিধিদলে রাখা যাবে না বলে কড়া শর্ত দেওয়া হয়েছে।
- ইরানের বদলে ইতালিকে সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব উঠলেও তা কার্যকর হয়নি।
- নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।